ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ন

বন্ধ এমারেল অয়েলের শেয়ারে চলছে কারসাজি, নিশ্চুপ ডিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে নিয়ে কারসাজিকারকরা এখনো সক্রিয়। উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিটির মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল। আজ বুধবারও শেয়ারটি লেনদেনের শীর্ষ ২০ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে। এতে বোঝা যায় শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি চক্র সক্রিয় থাকলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কোন তদারকি নেই।

ডিএসইর তথ্য মতে, আজ বুধবারও লেনদেনের শুরু থেকে শেয়ারটির দর বাড়তে থাকে। আজ ১২টা ২২ মিনিট পরযন্ত শেয়ারটির দর ১০ পয়সা বা দশমিক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ টাকায় অবস্থান করছে। এই সময়ে কোম্পানিটি ১ হাজার ২৯৮ বারে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১০টি শেয়ার লেনদেন করেছে। যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার ডিএসইতে এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এদিন প্রতিষ্ঠানটির সমাপনী দর ছিল ২৭ টাকা ৯০ পয়সা। এর আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৫ টাকা ৪০ পয়সা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস ধরে এমারেল্ড অয়েলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সব শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। সদ্য বিদায়ী অর্থ বছরের (৩০ জুন ২০২৪) তৃতীয় ও বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এমন নাজুক কোম্পানিটির শেয়ার দর হু হু করে বাড়ছে। ফলে নিঃসন্দেহে এই শেয়ার বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে কারসাজিকারদের হাত। আর এর প্রধান হিসেবে কাজ করছেন কোম্পানিটির কর্পোরেট পরিচালক মিনোরি বাংলাদেশের কর্ণধার মিয়া মামুন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মিয়া মামুন ও তার দোসররা কারসাজি করে এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করার মিশনে নেমেছেন। কারসাজির উদ্দেশ্যেই মূলত মিয়া মামুন প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি শেয়ার কারসাজি করে উচ্চ দামে একাধিকবার এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার বিক্রি করেছেন।

তাদের মতে, জাপানের নাগরিক মিয়া মামুন। কারসাজি করে উচ্চ দামে তার কাছে থাকা এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার বিক্রি করে জাপানে পাড়ি জমানোর পায়তারা করছেন। তাই কোম্পানিটির শেয়ারে কোনোভাবে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তারা আরও বলেন, অতিতে আমরা দেখেছি অনেক কোম্পানির শেয়ার কারসাজি করে এবং সেগুলো উচ্চ দামে বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কারসাজিকারকরা বাজার থেকে উধাও হয়েছেন। বিএসইসি তাদেরকে দিয়েছে নামমাত্র শাস্তি। এতে করে বাজারে তাদের দৌরত্ব কমেই-নি উপরন্ত বেড়েছে। তাই অতিতের মতো যাতে ভুল না হয় সেজন্য এখনই এমারেল্ড অয়েলের কারসাজিকারদের দৌরত্ব থামাতে হবে, বাঁচাতে হবে সাধারণ বিনিয়োগকারেদের।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বিজনেস আই বাংলাদেশকে বলেন, কোনো কোম্পানির যদি উৎপাদন বন্ধ থাকে এবং কোম্পানিটির আশানুরুপ ভবিষ্যৎ না থাকে তবে কোনোভাবেই সেই কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে পারে না। আর যদি দাম বাড়ে তবে অসৎ উদ্দেশ্যেই কারসাজিকারকরা দাম বাড়াচ্ছে। এব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন