দেশে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা ও খাদ্য মজুত নিশ্চিত করতে সরকার চলতি অর্থবছরে ১০.৫০ লাখ টন চাল আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যেই ৫.২৫ লাখ টন চাল আমদানি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান জানান, জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে ৩ লাখ টন চাল এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে ২ লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া, ভারত থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চাল আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকার আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেছে। ৩১ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধ ও আতপ চালের আমদানিতে সব শুল্ক তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর বেসরকারি খাতে ১৩৪ জন ব্যবসায়ীকে ১০.৫২ লাখ টন চাল আমদানির লাইসেন্স দেওয়া হলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ হাজার ৫০০ টন চালের জন্য এলসি খোলা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, আমন মৌসুম শুরু হলেও চালের দাম কমেনি এবং সরকারি খাদ্য মজুতও হ্রাস পেয়েছে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফেনী ও নোয়াখালীর মতো অঞ্চলে চাল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৬-৭ লাখ টন চাল উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়তি। তাই মিয়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাল আমদানির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও সরবরাহ চেইন উন্নত করার ওপর জোর দিতে হবে।