বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে বর্তমানে বিশ্বের ৪০ শতাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডাটা সেন্টারের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানায়, এআই ও জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে। বিদ্যুতের চাহিদা এতটাই বাড়বে যে, তা বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গার্টনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এআইসংশ্লিষ্ট কাজের জন্য বছরে বিদ্যুৎ ব্যবহার ৫০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা ছাড়াবে, যা ২০২৩ সালের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। গার্টনারের বিশেষজ্ঞ বব জনসনের মতে, বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার কারণে হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টারের সম্প্রসারণ ব্যাহত হবে, বিশেষ করে ক্লাউড কম্পিউটিং ও বিপুল ডাটা প্রসেসিংয়ের মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কার্যক্রমে।
এ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বড় আকারের ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পরিচালনা ও এআই কার্যক্রমের খরচ বাড়বে। এছাড়া বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা টেকসই লক্ষ্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে বলে গার্টনারের আশঙ্কা। পুরনো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্লান্ট চালু রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার কৌশল নেওয়া হলেও এতে কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গার্টনার আরও বলছে, টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসের পাশাপাশি সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও ছোট পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা ও কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্য পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে গার্টনার।