ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহে বাংলাদেশের ৮৫ কোটি ডলার বকেয়া জমেছে, যা আদায়ে চলতি মাস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করেছে কোম্পানিটি। আদানি বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৬০ শতাংশের বেশি কমিয়েছে। দেশের বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি শুধু আর্থিক নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবের অংশও হতে পারে।
বিদ্যুৎ চুক্তির অসমতা এবং উচ্চতর খরচ
২০১৭ সালে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির ১,৪৯৮ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য পিডিবি (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) ২৫ বছরের একটি চুক্তি করে, যা বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অসম। চুক্তির শর্তানুযায়ী, বাংলাদেশ নির্ধারিত পরিমাণ বিদ্যুৎ না নিলেও মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য। এই চুক্তির মাধ্যমে ২৫ বছরে বাংলাদেশ প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী, আদানির কয়লা এবং পরিচালনা খরচও অন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বেশি। রামপাল এবং পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে আদানির কয়লা মূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি। গত ১৫ মাসে কয়লার দামে ৩ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আদানির হুমকি
বাংলাদেশ সরকার বকেয়া পরিশোধে বিলম্ব করায় আদানি গ্রুপ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ৭ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে পারে আদানি। তবে আদানি পরে এমন হুমকির কথা অস্বীকার করে বলে, তারা পিডিবির সঙ্গে সহযোগিতায় প্রস্তুত।
কী বলছেন বিশ্লেষকরা
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, আদানির সঙ্গে করা চুক্তি একটি অন্যায্য বোঝা হিসেবে দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত এই চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, বকেয়া পরিশোধে চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিকল্প বিদ্যুৎ উৎসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে একটি বিশেষ কমিটি আদানি সহ ১৩টি বিদ্যুৎ প্রকল্পের শর্তাবলি পর্যালোচনা করছে, যার সুপারিশ অনুসারে ভবিষ্যত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।