স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের মদদপুষ্ট এম রাশিদুল হাসানকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার (২ নভেম্বর) গণমাধ্যমে বেসিস সংস্কার পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর বেসিসের সভাপতি ও পরিচালক পদ থেকে রাসেল টি আহমেদ এবং বেসিসের সহসভাপতি (অর্থ) পদ থেকে ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান পদত্যাগ করেন। এরপর এত দিন এই দুই পদ শূন্য ছিল। গত বুধবার বেসিসের নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম রাশিদুল হাসানকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুনর্গঠিত কমিটির নির্বাচিত সভাপতি এম রাশিদুল হাসান বিভিন্ন জায়গায় হাসিনা সরকারের শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পার্টনার হিসেবে কাজ করেছেন। এই ভোটের আগে ফেসবুকের মাধ্যমে আরেকটি পোলও অনুষ্ঠিত হয়, যা খুবই স্বচ্ছ ছিল এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর সুযোগ ছিল না। সেখানে বর্তমান বেসিস পর্ষদের দু’জন পরিচালক, সদস্যদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাদের কি পদত্যাগ করা উচিত কিনা। সেই উত্তরে বেসিস সদস্যদের ৭৫ শতাংশ তাঁদেরকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে বর্তমান নির্বাহী কমিটির সেই দুইজন আজও পদত্যাগ করেননি। উল্টো কার্যক্রমসমূহ আরো দ্বিগুণ উৎসাহে সম্পন্ন করে যাচ্ছেন।
এই নির্বাচনের আগে সংস্কার পরিষদের অব্যাহত দাবির প্রেক্ষিতে বেসিসের প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান পদত্যাগ করেন। অধিকাংশ বেসিস সদস্যদের প্রত্যাশা ছিল কার্যনির্বাহী পর্ষদের সকল সদস্যই পদত্যাগ করবেন। কিন্তু জয়-সালমান-পলকের আশির্বাদে জিতে আসা সদস্যরা পদত্যাগ না করে কার্যনির্বাহী পুনর্গঠিত করেছেন।
বেসিস সংস্কার পরিষদ এ ধরনের জঘন্য এবং ষড়যন্ত্রমূলক কাজের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। বর্তমান নির্বাহী পরিষদ এম রাশিদুল হাসানসহ যাদেরকে নির্বাচিত করেছে, তাদেরকে ঘৃণা ভরে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বেসিস সংস্কার পরিষদ। সংস্কার পরিষদ দ্রুত প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এ সম্ভাবনাময় খাতকে বাঁচানোর জন্য সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
উল্লেখ্য, নির্বাহী পরিষদের একই সভায় পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং পরিচালক এম আসিফ রহমানকে সহসভাপতি (অর্থ) নির্বাচিত করা হয়েছে।