গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে গেছেন বাংলাদেশর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সরকার বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নয়াদিল্লির লুটিয়েনস বাংলো জোনের একটি নিরাপদ স্থানে বসবাস করছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল ১৭ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা স্বল্প সময়ের নোটিশে ভারতে এসেছেন এবং এখানেই রয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, শেখ হাসিনার জন্য দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে ভারত সরকার।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুটিয়েনসের বাংলোয় তাকে সম্মানজনক একটি আবাস দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণত ভারতের সরকারী মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ। শীর্ষ কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িটির সঠিক ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
শেখ হাসিনা মাঝে মাঝে দিল্লির লোধি গার্ডেনে হাঁটাহাঁটি করেন এবং নিরাপত্তার কারণে তাকে সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। সূত্রের দাবি, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ওই এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৫ আগস্ট বাংলাদেশের গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেখ হাসিনা। নিরাপত্তার কারণে তাকে দ্রুত লুটিয়েনসের বাংলোয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার অবস্থান বাংলাদেশের সরকারের কাছে প্রকাশ করেনি। তবে আগস্টে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, শেখ হাসিনা সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন।
এছাড়া, শেখ হাসিনার সঙ্গে একই ফ্লাইটে ভারতে গিয়েছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তবে তিনি এখনো বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে আছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।