বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম চলতি বছরের শুরুর দিকের রেকর্ড উচ্চতা থেকে সম্প্রতি কমতে শুরু করেছে।
বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম চলতি বছরের শুরুর দিকের রেকর্ড উচ্চতা থেকে সম্প্রতি কমতে শুরু করেছে। তবে বেশির ভাগ পণ্যের দাম এখনো চড়া। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে গ্রাহকদের দুগ্ধজাত পণ্য ক্রয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে। খবর ফুড বিজনেস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর দুগ্ধজাত পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে দেশটিতে চেডার পনিরের গড় দাম দাঁড়িয়েছে পাউন্ডপ্রতি ১ ডলার ৭৬ সেন্টে। মাখনের দাম ছিল প্রতি পাউন্ডে ২ ডলার ৬২ সেন্ট। এছাড়া চলতি বছর পনিরের দাম ৭ শতাংশ ও মাখনের দাম ১২ শতাংশ বেড়েছে।
রাবো রিসার্চ ফুড অ্যান্ড এগ্রিবিজনেসের সিনিয়র ডেইরি অ্যানালিস্ট লুকাস ফুয়েস বলেন, ‘এ সময় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বর্তমানে আমরা বছরের সবচেয়ে নিম্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন মাসগুলোর একটি পার করছি।’
তিনি জানান, দুগ্ধজাত পণ্যের নিম্নমুখী সরবরাহ ও ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার ভারসাম্যহীনতার প্রভাব বিশ্বব্যাপীও পড়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এক প্রতিবেদনে জানায়, এ জোটভুক্ত দেশগুলোয় মাখনের দাম আগের বছরের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৮ হাজার ৭০৬ ডলারে পৌঁছেছে। এ দেশগুলোয় পনিরের দামও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১০ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি বছর এশিয়ার দেশগুলোয়ও মাখনের দাম ৩৬ শতাংশ ও পনিরের দাম ১২ শতাংশ বেড়েছে।
লুকাস ফুয়েস বলেন, ‘বৈশ্বিক দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ হ্রাস দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দাম কমে গেলে খামারগুলোয় লাভের পরিমাণ কমে যায়। তখন কৃষকরা সাধারণত খরচ কমানোর জন্য গরুর সংখ্যা কমানো থেকে শুরু করে খামার ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কৌশল পরিবর্তন করেন। ফলস্বরূপ এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা দুধ উৎপাদন কমে যেতে দেখছি, যার প্রভাব পড়ছে দুগ্ধজাত পণ্যের দামের ওপর। এমন পরিস্থিতি চলমান থাকলে আগামী বছরও দাম চড়া থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
লুকাস ফুয়েস আরো জানান, উৎপাদন কমার পেছনে গরুর রোগের বিস্তারও একটি ভূমিকা পালন করেছে। যদিও এর মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে রাবো রিসার্চের সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী বছর বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বিশ্বের শীর্ষ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কিছু উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত বৈশ্বিক কৃষিপণ্য সরবরাহ ও চাহিদা প্রাক্কলন শীর্ষক (ডব্লিউএএসডিই) প্রতিবেদনে ইউএসডিএ জানায়, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে চেডার পনিরের দাম পাউন্ডপ্রতি ১ ডলার ৮৮ সেন্ট হতে পারে, যা আগের মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৬ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম এবং চলতি বছরের তুলনায় ১ সেন্ট বা দশমিক ১ শতাংশ কম।
অন্যদিকে ইউএসডিএ আগামী বছরের জন্য মার্কিন মাখনের দাম পাউন্ডপ্রতি ২ ডলার ৭৯ সেন্ট নির্ধারণ করেছে, যা সেপ্টেম্বরে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ২১ সেন্ট বা ৭ শতাংশ কম এবং চলতি বছরের তুলনায় ১৪ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের সব দুগ্ধজাত পণ্যের দাম আগের মাসে দেয়া মাসের পূর্বাভাস থেকে ৭০ সেন্ট ৩ শতাংশ কমতে পারে। এছাড়া চলতি বছরের তুলনায় কমতে পারে ৫ সেন্ট বা দশমিক ১ শতাংশ।