চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাতে ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩০৯ কোটি টাকায়, যেখানে ২০২৩ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে এই ব্যয় ছিল ৫৭১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬১টি ব্যাংকের এ ব্যয়ের পতন মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং ব্যাংকগুলোর মুনাফার ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৩৫টি তালিকাভুক্ত ব্যাংকের মুনাফা ৪১.২৬ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জের মধ্যে উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং সুশাসনের অভাবও সিএসআর ব্যয় কমার অন্যতম কারণ। চলতি বছরের জুন শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ১২.৫৬ শতাংশ। এটি গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুপাত।
বেসরকারি দি প্রিমিয়ার ব্যাংক সিএসআর খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে, যার পরিমাণ ৪৬.৫৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক ২৮ কোটি টাকা এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ২৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
এছাড়া আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সিএসআর-সংক্রান্ত ব্যয় করেছে ২১ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৯ কোটি টাকা, শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক ১৮ কোটি টাকা, যমুনা ব্যাংক ১৭ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১০ কোটি টাকা ও ডাচ্-বাংলা ৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। আর আর্থিক সংকটের কারণে ৬টি কোন অর্থ ব্যয় করতে পারেনি।
সিএসআর ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন। নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের সিএসআর তহবিলের ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা, এবং ২০ শতাংশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বিনিয়োগ করেছে।