যেকোনো স্মার্টফোন সঠিকভাবে যত্ন নিলে ডিভাইসটি নির্মাতাদের দেয়া সময়ের চেয়ে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
যেকোনো স্মার্টফোন সঠিকভাবে যত্ন নিলে ডিভাইসটি নির্মাতাদের দেয়া সময়ের চেয়ে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। যদি ফোনটি পরবর্তী সিরিজ বা নতুন মডেল বাজারে আসা পর্যন্ত টেকসই না হয়, তাহলে এর কারণ হতে পারে কিছু অভ্যাস, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ক্ষতি করছে। কিছু ক্ষতিকর আচরণ এড়িয়ে চললে দামি ডিভাইসটির জীবৎকাল আরো বাড়ানো যায়। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদরা পাঁচটি নির্দিষ্ট আচরণ এড়ানোর পরামর্শ দেন—
সস্তা চার্জিং কেবল ব্যবহার
সস্তা ও অপরিচিত কোনো কোম্পানির চার্জিং কেবল ব্যবহার করা ফোনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করতে পারে। এমনকি আগুন ধরা বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণও হতে পারে। তাই মানসম্পন্ন চার্জার কেনা ভালো। কারণ কম দাম দিয়ে সস্তা চার্জার কেনার ফলে যে ক্ষতি হতে পারে, এর মূল্য তার চেয়েও বেশি। এছাড়া ভালো কেবল হাতে পেলেও সেগুলো সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। যেমন কেবল খুব শক্ত করে মোড়ানো যাবে না, চার্জিং কেবলটি টেনে নয়, বরং আউটলেট থেকে বের করতে হবে প্লাগ ধরে। কেবলটি টেনে বের করা হলে ভেতরের তারগুলো ছিঁড়ে যেতে পারে, যা নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তা হতে পারে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, এমনকি আগুন।
ব্যাটারি খুব বেশি ড্রেন করা
ফোনের ব্যাটারি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সক্ষমতা হারায় এবং বছরের পর বছর ব্যবহারের ফলে ব্যাটারি লাইফ কমতে থাকে। কিছু অভ্যাস এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে, ফলে দ্রুত ব্যাটারি লাইফ শেষ হয়ে যেতে পারে। ফোনের ব্যাটারিকে ভালো রাখতে চেষ্টা করতে হবে সম্পূর্ণরূপে চার্জ শেষ হওয়ার আগে পুনরায় চার্জ করতে। ব্যাটারি ৩০ শতাংশের ওপর রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং মাঝে মাঝে কিছুটা ড্রেন হতে দেয়া উচিত যেন সেন্সরগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
ফোন কেস ব্যবহার না করা
অনেকেই স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ফাটল নিয়ে বা ভাঙা অবস্থায় ব্যবহার করেন, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভালো প্রটেক্টর ও কেস ব্যবহার না করার ফলে হয়। কেস ছাড়া ফোন দেখতে সুন্দর লাগলেও, এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ছোট ফাটলগুলো বড় ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এবং এটি যেকোনো ফোনের পুনরায় বিক্রির মূল্য কমিয়ে দেয়। তাই একটি ভালো কেস ও মজবুত স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
পানির নিচে ছবি তোলা
প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনগুলো ‘ওয়াটার প্রুফ’ হওয়ার দাবি করলেও কোনো গ্যাজেটই সম্পূর্ণরূপে পানি-প্রতিরোধী নয়। যেমন ওয়াটার প্রুফ বলে বাজারজাত করা হলেও সনি এক্সপেরিয়া এ নিয়ে বেশ জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে গ্রাহকদের। কিছু ডিভাইস অন্যদের তুলনায় পানির মধ্যে বেশি সহনশীল হতে পারে, তবে এতে সবসময়ই পানি প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। গ্যাজেটকে পানির সংস্পর্শে বেশি আনা হলে এর পানি প্রতিরোধের সক্ষমতা দুর্বল হতে থাকে।
নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলা
অনেকেই স্মার্টফোনের সফটওয়্যার আপডেটটি উপেক্ষা করে যান। এসব আপডেট গুরুত্বহীন মনে হতে পারে, তবে এর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা প্যাচ (patch) অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা ডিভাইসকে ম্যালওয়্যার ও অন্যান্য হুমকি থেকে রক্ষা করে। তাই ডিভাইস ও অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট করা অপরিহার্য। পিসিম্যাগ অবলম্বনে