পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। বিনিয়োগকারীদের অনেক রঙ্গীন স্বপ্ন দেখিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও) এর মাধ্যমে পুৃঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে রানার। বিনিয়োগকারীরাও অনেক স্বপ্ন নিয়ে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আশায় গুরেবালি। গত তিন প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়(ইপিএস) লোকসানে রয়েছে। ফান্ডামেন্টাল কোম্পানি হিসেবে পরিচিত রানার সর্বশেষ অর্থবছরে ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) রানার অটোমোবাইলসকে ‘জেড’ গ্রুপে পাঠায়। কেম্পানিটির এই দৈন্যদশায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে কোম্পানটির ‘জেড’ গ্রুপে যাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা। বিজনেস আই বাংলাদেশের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হলো-
এ.বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে তা বিনিয়োগকারীদের না দিয়ে রানার রুলস ভায়োলেট করেছে। এতে করে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ‘জেড’ ক্যাটাগরীতে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করতে ভয় পাবে। বিএসইসির উচিত রানারের বিরুদ্ধে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই ধরনের কোম্পানিতে সুশাসন না থাকলে বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে আস্থাহীনতায় ভোগে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন বলেন, রানারের মতো বড় কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়া মোটেই কাম্য নয়। এতে করে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিএসইসির উচিত কোম্পানিটিকে কঠোরভাবে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা। রানার ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরণ না করে রুলস ভঙ্গ করেছে। সঠিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে কমিশন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। আগামীতে আরো পদক্ষেপ নেবে কমিশন।
ডিএসই’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেডিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী বলেন, রানারকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠিয়ে বিএসইসি সঠিক কাজটি করেছে। কারণ ডিভিডেন্ড বিতরণ না করে চরম অন্যায় করেছে রানার। শুধু রানার না, যেকোনো কোম্পানির ‘জেড’ ক্যাটাাগরীতে যাওয়া দু:খজনক। রানারসহ সব কোম্পানির উচিত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখা। যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মিডওয়ে সিকিউরিটিজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আশেকুর রহমান বলেন, রানারের বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ জেনে বুঝেই ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল বিনিয়োগকারীদের জন্য। পরবর্তীতে কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড না দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরীতে যাওয়া মোটেই ঠিক হয়নি। এতে করে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরাও। ঘোষণাকৃত ডিভিডেন্ড
বিনিয়োগকারীদের না দিয়ে কোম্পানিগুলো প্রতারণা করছে বিনিয়োগকারীদের সাথে। গত ২/৩ বছর ধরে এধরনের বাজে প্রাক্টিস শুরু করেছে কিছু কোম্পানি।
উল্লেখ্য, রানার অটোমোবাইলসের সর্বশেষ (৯ অক্টোবর) শেয়ার দর ছিলো ২০ টাকা ৮০ পয়সা। ‘জেড’ গ্রুপে লেনদেন করা কোম্পানিটির গত বছরের (২০২৩) ১১ অক্টোবর শেয়ার দর ছিলো ৪৮ টাকা ৪০ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে শেয়ার দর কমেছে ২৭ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ ৫৭ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে। বর্তমানে রানারের বাজার মূলধন রয়েছে ২৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।