পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে ক্ষমতাসীন শাহবাজ সরকার। এরই মধ্যে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করেছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজ।
রাজধানী শহরটিতে আগামী সপ্তাহে সমাবেশের ডাক দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই। যদিও শাহবাজ সরকারের দাবি পিটিআইকে লক্ষ্য করে নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
পাকিস্তানজুড়ে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চলছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এ মুহূর্তে দেশটির বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে তাঁর সমর্থকরা। আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদেও সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি।
ইমরানের দল যখন বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, ঠিক তখন রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে সরকার। পার্লামেন্টে এ নিয়ে একটি বিল উত্থাপন করেছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজের এক সংসদ সদস্য। ওই বিলে শহরটিতে যে কোনো জনসমাবেশ নিষিদ্ধে ‘সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদানে’র কথা বলে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পিটিআইকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া না হলে পাকিস্তানে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
যদিও শাহবাজ সরকার বলছে, ইমরানের দলকে টার্গেট করে তারা বিলটি প্রস্তাব করেনি, বরং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আলজাজিরার মতে, গত মাসে পার্লামেন্টে সংরক্ষিত আসন ইস্যুতে ইমরানের দলের পক্ষে রায় দেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। তবে ওই মামলায় আদালত পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ করেননি। আগামী সপ্তাহে পিটিআই যে সমাবেশের ডাক দিয়েছে, তার প্রধান এজেন্ডা হচ্ছে কারাগার থেকে ইমরানের মুক্তি। ইসলামাবাদ ছাড়াও এ মাসেই লাহোরে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি।
এদিকে গত মাসে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার উল্লম্ফন দেখেছে পাকিস্তান। দেশটির থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিপস) এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগস্টে পাকিস্তানে মোট ৫৯টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে পিপস। সেখানে আরও বলা হয়েছে, জুলাইয়ে ৩৮টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল পাকিস্তানে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রদেশ চারটি এবং কেন্দ্রশাসিত এলাকা তিনটি। পিপসের তথ্য অনুসারে, আগস্ট মাসের যাবতীয় সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে তিনটি প্রদেশ– খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান ও পাঞ্জাবে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ২৯টি, বেলুচিস্তানে ২৮টি এবং পাঞ্জাবে দুটি হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে অনুমতি ছাড়া পাকিস্তানে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না দেশটির সরকারি কর্মীরা। সরকারি তথ্য ফাঁস হওয়া রোধে পাকিস্তান সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।


















