প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভারতের উত্তরাঞ্চলে চা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে গত মাসে সামগ্রিকভাবে দেশটির চা উৎপাদন কমে গেছে। ভারতীয় চা বোর্ডের তথ্যানুসারে, জুলাইয়ে ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম। গত বছর দেশটিতে ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
আসাম ভারতের প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চল। এ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন কমে গেছে। গত মাসে আসামে ৭ কোটি ৮৩ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে এ অঞ্চলে ৯ কোটি ২৭ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। প্রদেশের আসাম উপত্যকায় উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার কেজি, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার কেজি। কাছাড়ে উৎপাদন কমে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার কেজিতে নেমেছে, যেখানে গত বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫২ লাখ ৯০ হাজার কেজি।
গত মাসে পশ্চিমবঙ্গে ৪ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টন চা উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ। প্রদেশের দোয়ার্স অঞ্চলে উৎপাদন প্রায় ২৩ শতাংশ কমে ২ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার কেজিতে নেমে গেছে। একই সময়ে তেরাই অঞ্চলে ২০ শতাংশ কমে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার কেজি এবং দার্জিলিংয়ে উৎপাদন সামান্য কমে নয় লাখ কেজিতে নেমে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে চা উৎপাদন কমার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতীয় চা অ্যাসোসিয়েশনের (আইটিএ) সেক্রেটারি জেনারেল অরিজিত রাহা। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।’
আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে চা উৎপাদন কমলেও দক্ষিণ ভারতে ৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ২ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার কেজি উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার কেজি।
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়। গত মাসে সেখানে চা উৎপাদন ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার কেজিতে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে কেরালা ও কর্ণাটক রাজ্যে ভারি বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমেছে। জুলাইয়ে কেরালায় উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ৪২ লাখ ৪০ হাজার কেজিতে নেমে গেছে। এ সময়ে কর্ণাটকে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কেজি।