অফিসে যেতে হবে। হাতে সময় কম। সেলফোন চার্জিংয়ে দিয়েছেন। খুব করে চাচ্ছেন বের হওয়ার আগে অন্তত ৬০-৭০ শতাংশ ব্যাটারি চার্জ হোক। দেখা গেল ৫০ শতাংশও হলো না। এ পরিমাণ চার্জ নিয়ে পুরো দিন পার করা প্রায় অসম্ভব। এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই পড়েন যা, নানা কারণে হতে পারে। চার্জার বা কেবলের সমস্যা থাকতে পারে আবার ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। মেক ইউজ অবের প্রতিবেদনে মুঠোফোনে চার্জিং ধীরগতির কয়েকটি কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
চার্জার ও কেবল
ব্র্যান্ডভেদে সেলফোনের বক্সে চার্জার নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ভালো কোম্পানির চার্জার কেনা জরুরি। তবে বক্সে যদি চার্জার থেকে থাকে তাহলে সেটিই সবসময় ব্যবহার করতে হবে। সস্তায় কেনা চার্জার শুরুর দিকে ভালো সার্ভিস দিলেও অল্প কয়েকদিন পরই চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি চার্জিংয়ের সময় ফোন গরম হয় ও কেবল সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বক্সে থাকা বা ভালো ব্র্যান্ডের কেবল ব্যবহার জরুরি। বিশেষ করে কেবলের প্লাগ অংশে চাপ পড়ে নষ্ট হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চার্জিং গতি কমে যেতে পারে। তাছাড়া স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে চার্জার ও কেবল রাখলে ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।
চার্জিং পোর্ট
চার্জার বা কেবলে সমস্যা থাকলে সহজেই পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু চার্জিং পোর্টের সমস্যা ক্ষেত্রবিশেষে ব্যয়সাধ্য হতে পারে। সেলফোন যেহেতু পকেটে বা ব্যাগে থাকে, তাই চার্জিং পোর্টে ধূলিকণা, ফাইবারের অংশসহ বিভিন্ন কণা বা ময়লা ঢুকতে পারে। এতে কেবলের সংযোগ সমস্যার কারণে চার্জিং গতি কমে যেতে পারে। অনেক সময় ফোন হাত থেকে পড়েও পোর্টের ক্ষতি হতে পারে। আর্দ্রতা চার্জিং পোর্টের বড় শত্রু। সব মিলিয়ে এসব থেকে দূরে রাখতে পারলে চার্জিং গতি যথাযথ পাওয়া যাবে। তা না হলে প্রথমে কেবল ও চার্জার পরিবর্তন করে পরীক্ষা করা যেতে পারে। নয়তো সার্ভিসিংয়ের জন্য নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ
স্মার্টফোন তৈরি করা হয়েছে একসঙ্গে একাধিক কাজের উপযোগী করে। তবে অ্যাপের মানভেদে অপ্টিমাইজ করার ক্ষমতা একেক রকম। ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকগুলো অ্যাপ চলতে থাকলে র্যাপ ও রমের ওপর চাপ বাড়তে থাকে, পাশাপাশি ব্যাটারির চার্জও দ্রুত কমতে থাকে। তাছাড়া কিছু অ্যাপ কেটে দেয়ার পরও চলতে থাকে। এ অবস্থায় চার্জিং গতি কমে যায়।
ব্যাটারির সক্ষমতা
ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে ব্যাটারির সক্ষমতা ঠিক কতদিন বজায় থাকবে। প্রথম এক-দুই বছর মোটামুটি ভালো সেবা পাওয়া যায়। তবে দিনের দীর্ঘ সময় ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে দ্রুত সক্ষমতা কমতে পারে। ব্যাটারির সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে চার্জিং গতি কেমন হবে। অনেক সময় সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমেও সমস্যাটির কিছুটা উন্নতি করা যায়। তবে চার্জিংয়ে দীর্ঘ সময় লাগলে বা ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে গেলে ব্যাটারি পাল্টিয়ে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
চার্জিংয়ের সময় ফোন ব্যবহার
এ পরিস্থিতিতে একসঙ্গে দুটি কাজ হয়—একদিকে ব্যাটারি চার্জ হয়, অন্যদিকে চার্জ কমে যায়। এতে চার্জিং সময় বেড়ে যায়। তাছাড়া ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং ফোন গরম হতে থাকে। ফলে ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যায়।