ভারত চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ১০ কোটি স্মার্টফোন বিক্রি হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেকআর্ক। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে ভারতে মোট ১৫ কোটি ৮০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭-৯ শতাংশ বেশি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দামের, বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন বিক্রি বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন, পুরনো স্মার্টফোনের নিয়মিত হালনাগাদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্ভাবন ও স্মার্টফোনের সৌন্দর্য বাড়াতে নজর দিয়েছে। ফলে দেশটিতে স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে।
টেকআর্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কায়ুসা জানান, কভিড-পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে। এটি আগামী বছরগুলোয় ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারের গতিশীলতাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যে সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে সব দামের পণ্যের বৈচিত্র্যও বাড়াচ্ছে। এ পরিবর্তনের ফলে বাজারে স্মার্টফোনের দাম ও জোগানের মধ্যে একটি ভারসাম্য এসেছে। এটা বড় ধরনের পরিবর্তন।’
টেকআর্কের প্রতিবেদনে মধ্যম-মেয়াদি স্মার্টফোন বাজারের পর্যালোচনা করা হয়। এতে বেশকিছু প্রবণতা উঠে এসেছে। প্রথমত, ফাইভজি এখন স্মার্টফোনের ক্রেতাদের কাছে একটি স্বাভাবিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ তারা ধরেই নিচ্ছেন, তাদের কেনা ফোনে ফাইভজি থাকবে। এটা সব স্তরের দামের স্মার্টফোনের জন্য প্রযোজ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ চাহিদা এমন এলাকার ক্রেতাদের মধ্যেও ছিল, যেখানে এখনো ফাইভজি পৌঁছায়নি। ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রি হতে যাওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ স্মার্টফোন ফাইভজি সমর্থিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ৮ হাজার ও ১২ হাজার রুপি দামের স্মার্টফোনগুলোয়ও এ প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, স্মার্টফোনে এআইয়ের উপস্থিতি, রঙ, উপাদান ও ফিনিশিং বাজারে মূল পার্থক্যকারী উপাদান হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এসব উপাদান কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ানোর পরিবর্তে স্মার্টফোনের জীবনকাল বাড়াবে বলে মনে করছে টেকআর্ক। এর কারণ হলো, এগুলো স্মার্টফোনের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

এছাড়া ভারতীয় গ্রাহকরা স্মার্টফোন কেনার সময় সেটি ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য কিনা, তাও বিবেচনা করছেন। এ বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এ ধরনের ১০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ক্রেতাদের এ চাহিদাকে সামনে রেখে যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো ফোল্ডেবল ডিভাইস তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। নিজেদের স্মার্টফোনকে আরো আকর্ষণীয় করতে এর সঙ্গে আরো নতুন ফিচার যুক্ত করার চিন্তাও করছে তারা।
টেকআর্ক বলছে, ভারতীয় স্মার্টফোনের বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে। এককভাবে কোনো কোম্পানি বাজারে আধিপত্য বিস্তার করবে না বলে আশা করা হচ্ছে। অনলাইন-অফলাইনে বিক্রিতেও কোম্পানিগুলো সমানভাবে সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামীতে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর বাজার হিস্যা কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পোকো, মটোরোলা ও নাথিংয়ের মতো ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ পরিবর্তন আরো বৈচিত্র্যময় বাজার সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই কোম্পানিগুলোকে সফল হতে হবে।


















