ইন্টারনেটে দেখা কোনো একটি ভিডিওর মূল উৎস জানার প্রয়োজন হতে পারে। নানা কারণে এ প্রয়োজন দেখা দেয়। কেউ হয়তো ভিডিওর ছোট একটি অংশ পাঠিয়েছেন। কিন্তু ভিডিওটি অসম্পূর্ণ হওয়ায় প্রয়োজন মূল ভিডিওর। আবার কৃতিত্ব স্বীকার করতে ভিডিওটি কে তৈরি বা পোস্ট করেছেন তা জানারও প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাছাড়া আইনি কাজে প্রয়োজন হতে পারে ভিডিওর উৎস। একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কাজটি কিছুটা গোলমেলে লাগতে পারে। তবে ধৈর্য ধরে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলে কাজটি উদ্ধার করা সম্ভব। ম্যাক ইউজ অবের প্রতিবেদনে ভিডিওর উৎস খুঁজে বের করার কয়েকটি পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
রিভার্স ইমেজ সার্চ
ভিডিও থেকে প্রথমে একটি স্ক্রিনশট নিতে হবে। এরপর যেকোনো একটি রিভার্স ইমেজ সার্চ ইঞ্জিনে আপলোড করতে হবে। তখন সার্চ ইঞ্জিনের অ্যালগরিদম স্ক্রিনশটের রঙ, পিক্সেল, বিশেষ অবয়ব, লেখাসহ বেশকিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করে এ ধরনের ছবি ও ভিডিও যেসব ওয়েবসাইটে রয়েছে সেগুলো দেখাবে।
এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে গুগল, বিং, প্রিপোস্টএসইও, টিনআই, আইডিকিউবির মতো রিভার্স ইমেজ সার্চ ইঞ্জিন। এছাড়া গুগল লেন্সের মতো সেলফোন অ্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ম্যানুয়াল সার্চ
প্রক্রিয়াটি বেশ ধৈর্যের। ভিডিও থেকে যতটা ধারণা পাওয়া যায় তার ওপর ভিত্তি করে গুগল, বিং, ইয়ান্ডেক্সের মতো সার্চ ইঞ্জিনে কয়েকটি শব্দ লিখে সার্চ বাটনে চাপলে এ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট দেখাবে। ফিল্টার থেকে ভিডিও অপশন নির্বাচন করলে সম্পর্কিত ভিডিওগুলো দেখাবে। এক্ষেত্রে বেশ অনেকগুলো ওয়েবসাইট ঘুরে দেখার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইউটিউবের অনেক ভিডিও দেখার প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে ভিডিওতে যদি কোনো স্থান, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট কিছুর নাম থেকে থাকে তাহলে খুঁজে পেতে কিছুটা হলেও সহজ হতে পারে।
গুগলের অ্যাডভান্সড ভিডিও সার্চ
এর জন্য ভিডিও থেকে কিছু তথ্যের প্রয়োজন হবে। ভিডিওর ভাষা, প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ, ভিডিওতে যদি কথোপকথন থাকে সেখান থেকে কিছু শব্দসহ যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
এরপর গুগলের অ্যাডভান্সড ভিডিও সার্চ টুলে যেতে হবে। এরপর ‘ফাইন্ড ভিডিওস অব’ বিভাগে ভিডিওর বর্ণনা ও সম্পর্কিত কিছু শব্দ দিতে হবে। খোঁজা সহজ করতে ‘ন্যারো ইওর রেজাল্টস’ বিভাগে ভিডিওর ভাষা, দৈর্ঘ্য, প্রকাশ তারিখের তথ্য দিয়ে কিছুটা নিচের দিকের ‘অ্যাডভান্সড সার্চ’ বাটন চাপলেই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে গুগল বেশকিছু ফলাফল দেখাবে।
ভিডিওর অন-স্ক্রিন তথ্য
ক্ষেত্রবিশেষে মূল ভিডিও পরিবর্তন না করেই অনেক সময় পুনরায় পোস্ট করা হয়। কখনো-বা স্ক্রিন রেকর্ডার দিয়ে ভিডিও করা হয়। এ বিশেষ পরিস্থিতিতে মূল ভিডিওর লোগোসহ কিছু তথ্য থেকেই যায়। এসব তথ্য দিয়ে সহজেই উৎস বের করা যাবে। তাছাড়া ভিডিওজুড়ে স্ক্রিনের আরো কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সেগুলোও উৎস খোঁজার কাজ সহজ করবে।
ফেক নিউজ ডিবাংকার ব্রাউজার এক্সটেনশন
প্রথমে ব্রাউজারে এক্সটেনশনটি ইনস্টল করতে হবে। এরপর এক্সটেনশনটিতে ক্লিক করলে ‘ওপেন টুলবক্স’ পাওয়া যাবে। সেখান থেকে যে পেজ আসবে তাতে বাম পাশে ‘ভিডিও’ বিভাগে ‘কিফ্রেমস’ অপশন পাওয়া যাবে। এটি নির্বাচন করলে অনলাইন থেকে ভিডিওর লিংক পেস্ট করার বা ভিডিও ফাইল আপলোড করার অপশন পাওয়া যাবে। এরপর ‘সাবমিট’ নির্বাচন করলেই ভিডিওর ফলাফল দেখাবে। এছাড়া যেকোনো ছবি বা ভিডিওতে মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করলেও রিভার্স সার্চ অপশনসহ ফেক নিউজ ডিবাংকারের অপশনগুলো পাওয়া যাবে।