যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক টেক জায়ান্ট অ্যাপল তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সময় কোম্পানিটি রেকর্ড আয়ের কথা জানিয়েছে। এ সফলতায় বড় ভূমিকা রেখেছে অ্যাপলের পরিষেবা খাত। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
কোম্পানিটি জানায়, গত ২৯ জুন শেষ হওয়া ২০২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপল প্রায় ৮ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে নিট আয় অর্থাৎ খরচ বাদ দিয়ে কোম্পানির আয় হয়েছে ২ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের ৮ হাজার ১৮০ কোটি ডলারের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে ৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) অ্যাপলের অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিককে বোঝায়। কিছু কোম্পানি নিজস্ব ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে অর্থবছর নির্ধারণ করে। অ্যাপলের জন্য তৃতীয় প্রান্তিক সাধারণত এপ্রিল, মে ও জুনকে ধরা হয়।
অ্যাপলের পরিষেবা বিভাগের মধ্যে রয়েছে অ্যাপল টিভি প্লাস ও অ্যাপল মিউজিক। কোম্পানিটি নিজেদের তৃতীয় প্রান্তিকে পরিষেবা থেকে আয় করেছে ২ হাজার ৪২০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ২ হাজার ১২০ কোটি ডলার থেকে ১৪ শতাংশ বেশি। এ প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওয়াল স্ট্রিট এক্ষেত্রে ২ হাজার ৩৯৬ কোটি ডলারের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
এক বিবৃতিতে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘অ্যাপল জুন প্রান্তিকে ৮ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের রেকর্ড আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা এক বছর আগে একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রান্তিকে আমরা ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্সে সফটওয়্যার প্লাটফর্মে অবিশ্বাস্য হালনাগাদ ঘোষণা করতে পেরে উচ্ছ্বসিত, যার মধ্যে রয়েছে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স।’
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অ্যাপলের আইপ্যাড বিক্রি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৭২০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৫৮০ কোটি ডলারের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। মূলত অ্যাপল এ বছর আরো বেশি আইপ্যাড বা উচ্চ মূল্যের মডেল বিক্রি করেছে, যা এ প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ফলে অ্যাপল টিভি প্লাস ও অ্যাপল মিউজিকসহ মিডিয়া ব্যবসায় বিভিন্ন পরিষেবার মাধ্যমে প্রান্তিকের হিসাবে যে রেকর্ড আয় করেছে তাতে টেক জায়ান্টটি এখনো শীর্ষে রয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা এর আগে জানুয়ারিতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলতি বছর অ্যাপলের প্রযুক্তিপণ্য বিক্রি ও মুনাফা আগের চেয়ে বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়া হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার পারফরম্যান্স ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিশ্লেষকরা।