ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

কোন কাজে কত গতির ইন্টারনেট সংযোগ দরকার

ঘরে কিংবা অফিসে এমনকি চলতি পথে বর্তমানে এক মুহূর্ত ইন্টারনেট ছাড়া চলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি মুহূর্তের আপডেট জানা, কর্মক্ষেত্রে বা পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অথবা অবসরে ভিডিও গেম খেলা কিংবা ভিডিও কনটেন্ট দেখা—এ সব কিছুই এখন ইন্টারনেটনির্ভর। সেজন্য প্রয়োজন হয় ভালো গতির ইন্টারনেট সংযোগ। এ জন্য মোবাইল অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সংযোগ নেয়া হয়। কাজের ধরনভেদে একেকজনের একেক গতির ইন্টারনেট প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নেয়ার সময় ঠিক কত গতির প্যাকেজ নিলে কাজ ঠিকভাবে করা যাবে তা জেনে নেয়া জরুরি। এ সম্পর্কে মেক ইউজ অবের প্রতিবেদনে ধারণা দেয়া হয়েছে।

গেমিং ও উচ্চমানের স্ট্রিমিং: একটা সময় ছিল যখন গেম খেলার জন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মতো গেমিংয়েও অনেক সুবিধা রয়েছে। খেলতে খেলতে বার্তা আদান-প্রদান যেমন করা যায়, আবার একাধিক প্লেয়ার টিম হিসেবে খেলার সময় নিজেদের মধ্যে কথাও বলা যায়। তাছাড়া অনেক গেমার আছেন যারা গেম খেলার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চ রেজল্যুশনে ভিডিও স্ট্রিমও করেন। এসব মিলিয়ে গেম খেলার সময় বেশ উচ্চ গতির ইন্টারনেট প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ মেগাবিট (এমবি/সেকেন্ড) গতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে ঝামেলাবিহীন কাজ করা যাবে। তবে ৪কে রেজল্যুশনে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য ১০০ এমবি/সেকেন্ড গতির ইন্টারনেট থাকলে বাড়তি চিন্তায় পড়তে হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়া ও সাধারণ ব্রাউজিং: সাধারণ ব্যবহারের মধ্যে পড়ে খবর পড়া, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অথবা ভিডিও দেখা। অধিকাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এ কাজগুলো করে থাকেন। তবে প্রয়োজন যদি শুধু এটুকুই হয়ে থাকে তাহলে উচ্চ গতির ইন্টারনেটের প্রয়োজন নেই। সাধারণত ৫ থেকে ১০ এমবি/সেকেন্ড গতির ইন্টারনেট যথেষ্ট হবে। তবে মোটামুটি ১০ এমবি/সেকেন্ডের আশপাশের গতির সংযোগ নিলে সমস্যায় পড়তে হবে না।

ঘর থেকে কাজ: ঘর থেকে কাজ করা ক্ষেত্রবিশেষে সুবিধার হলেও প্রচুর পরিমাণে ফাইল আদান-প্রদান করতে হয়। পাশাপাশি ভিডিও কলে মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়। এক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবহারের চেয়ে একটু বেশি গতির ইন্টারনেট সংযোগ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। ২০ এমবি/সেকেন্ড গতির সংযোগ রাখলে হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এক সংযোগে ঠিক কতজন কাজ করা হবে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

অন-ডিমান্ড ও লাইভ স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স বা ডিজনি প্লাসের মতো কোম্পানিগুলো অন-ডিমান্ড ভিডিও সেবা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশেও এ রকম সেবা দিয়ে থাকে চরকি, বঙ্গ বিডিসহ অন্যান্য কোম্পানি। এসব প্লাটফর্মে কনটেন্ট দেখতে মোটামুটি ভালো ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে মোটামুটি ১০ থেকে ২০ এমবি/সেকেন্ড গতির ইন্টারনেট সংযোগ যথেষ্ট হবে।

ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের প্রয়োজনভেদে তাদের প্যাকেজে ঠিক কী কী থাকছে তা ভালোভাবে যাচাই করে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া বেশি গতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে প্রয়োজন হয় উচ্চ গতির কম্পিউটারও। তাই কম্পিউটারের সক্ষমতাও এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া জরুরি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ