সংঘাত ও নাশকতার কারণে টানা ১০ দিন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ও কারফিউতে বিপাকে পড়েছেন রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকেরা। তাদের আয়ে পড়েছে বড় ধাক্কা। এ অবস্থায় রোজগার কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক না হলে সহজ হবে না আয়ের পথ, বলছেন তারা। অনেকে চুক্তিতেও এ সময় ভাড়া না পেয়ে অলস সময় কাটিয়েছেন বলে জানান।
পাঠাওয়ের একজন চালক ইন্টারনেট বন্ধ থাকার সময়, কারফিউর শুরুর দিকের আয়ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘ছাত্রদের সঙ্গে ঝামেলা শুরুর পর এক সপ্তাহ বের হতে পারিনি। ফাঁকা রাস্তায় যাত্রীও নেই। আবার অনলাইন বন্ধ থাকায় খ্যাপের চালক বেড়ে গেছে। কারফিউর শুরু থেকে তিন দিনে মাত্র ১ হাজার ৭০০ টাকার ট্রিপ দিয়েছি। অন্য সময় বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিদিন কম হলেও ১ হাজার ৫০০ টাকা পকেটে ঢুকত।
যানজটের নগরীতে দ্রুত ও ঝামেলাহীন যাতায়াতে অনেকের পছন্দ মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং। অনেকেই একে বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। অবশ্য মাঠের রাইডাররা যখন আয়ের কষ্টের কথা বলছেন, তখন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বলা হচ্ছে, ইন্টারনেট না থাকায় তাদের আয় তলানিতে নেমেছিল। ধীরে ধীরে এখন স্বাভাবিকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মোবাইল ফোন অ্যাপস-ভিত্তিক গাড়ি শেয়ার নেটওয়ার্ক ‘উবার’ ও ‘পাঠাও’র কার্যক্রম দেশে শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর থেকে সড়কে যানজট এড়িয়ে দ্রুত ও সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এ রাইড শেয়ারিং। কেউ পুরোপুরি পেশা হিসেবে নিয়েছেন। কেউ আবার বাড়তি আয়ের মাধ্যম হিসেবে চাকরি কিংবা অন্য কাজের ফাঁকে রাইড শেয়ার করছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি অনুযায়ী, যানজটের নগরী ঢাকায় ৫ লাখের মতো এবং সারা দেশে আরো ৮-১০ লাখ মোটরযান শেয়ারে চলে। ঢাকায় ব্যক্তিগত অনেক গাড়িও শেয়ারে চলে। তবে নিবন্ধন করে উবার ও পাঠাও অ্যাপসে চলে ২৮ হাজারের মতো মোটরযান-গাড়ি। শুরুর দিকে উবার, পাঠাও ছাড়াও দেশে স্যাম, আমার রাইড, মুভ, বাহন, চলো অ্যাপে, ট্যাক্সিওয়ালা, ওই খালি, ইজিয়ার, লেটস গো ইত্যাদি নামে বিভিন্ন কোম্পানি অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবার কাজ শুরু করে। তবে এগুলোর মধ্যে অনেকের এখন কার্যক্রম নেই।