ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

রাউটার কখন পরিবর্তন বা আপগ্রেড করা প্রয়োজন

সেলফোন, ট্যাবসহ বিভিন্ন ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রয়োজন হয় রাউটার। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা গতি কমে না যাওয়া পর্যন্ত ঘরের এক কোনে পড়ে থাকা ডিভাইসটির কথা খুব একটা মনে করেন না কেউ। ফোন কিংবা কম্পিউটারের মতো রাউটারও বিভিন্ন কারণে পরিবর্তন বা আপগ্রেড করার কথা বলেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। আর কখন রাউটারটি আপগ্রেড করা প্রয়োজন তা জানানো হয়েছে মেক ইউজ অবের প্রতিবেদনে।

গতি কমে যাওয়া ও বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া

দুর্বল ও ধীরগতির ইন্টারনেট সংযোগের কারণে কাজে বাধা সৃষ্টি হয়, যা বিরক্তি তৈরিসহ কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যেমন ওয়েব পেজ লোড না হওয়া, গেমিং কিংবা অনলাইন মিটিং বাধাগ্রস্ত হওয়া, বারবার অনলাইন কল ড্রপ করা বা সংযোগ একদম চলে যাওয়া। ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো পুরনো রাউটারটি আধুনিক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। সময়ের সঙ্গে নতুন আপডেটেড ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে। এ ডিভাইসগুলো নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে পুরনো ফিচারযুক্ত রাউটারটি কাজ করতে হিমশিম খেয়ে যায়। ফলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া ও বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই এমন হলে বুঝতে হবে, রাউটারটি হয়তো আপগ্রেড করা কিংবা পরিবর্তনের সময় এসেছে।

পুরো বাড়িতে সংযোগ না পেলে

বাসা পরিবর্তন করে বড় বাড়িতে গেলে এ সমস্যা হতে পারে। রাউটার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থাকার ফলে দেখা যায়, আশপাশের রুমগুলোয় নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। যে রুমটি রাউটার থেকে দূরে সেখানে ওয়াই-ফাই পৌঁছচ্ছে না। এক্ষেত্রে অবশ্যই রাউটারটি আপগ্রেড করতে হবে। ডিভাইসটি আপগ্রেড করার সময়, নতুন বাড়ির আকার এবং যতটুকু এলাকা কভার করতে চান তার ওপর ভিত্তি করে একটি বেছে নিন।

রাউটার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া

রাউটারটি যদি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় তাহলে ডিভাইসটি উঁচু স্থানে খোলামেলা জায়গায় রাখতে হবে। তাও যদি কাজ না হয় তাহলে বুঝতে হবে, রাউটারটি গরম হওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে। এ ধরনের ওভারহিটিংয়ের ফলে হুট করে রাউটার বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা বারবার রিবুট হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে অ্যাডভান্স কুলিং সিস্টেম আছে এমন রাউটার নিতে পারেন।

রাউটারে অ্যাডভান্স ফিচার নেই

রাউটারে যদি বিমফর্মিং, মাল্টিপল ইনপুট, মাল্টিপল আউটপুট ও মেশ নেটওয়ার্কিং ফিচারগুলো না থাকে তাহলে রাউটারটি আপগ্রেড করা জরুরি। এছাড়া সিকিউরিটি প্রটোকল, যেমন ডব্লিউপিএ থাকাও প্রয়োজন। উন্নত নিরাপত্তা প্রটোকল সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।

রাউটারটি ১০ বছরের পুরনো

প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা জানান, রাউটার ঠিকমতো কাজ করলেও ১০ বছরের বেশি সময় হয়ে গেলে ডিভাইসটি পরিবর্তন করা উচিত। কারণ প্রযুক্তি দিনদিন আপগ্রেড হচ্ছে, নতুন মডেলগুলোয় অ্যাডভান্স সুবিধা দেয়া হয়। তাই একটি রাউটার দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তারা।

এছাড়া ঘরে ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ানোর কিছু পদ্ধতির কথা জানান প্রযুক্তিবিদরা। যেমন রাউটারটি বাসার মাঝামাঝি কোনো জায়গায় রাখতে হবে। ফলে বাসার অধিকাংশ জায়গা নেটওয়ার্কের আওতায় থাকবে। ওয়াই-ফাই রেঞ্জ এক্সটেন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে। পুরো বাড়িতে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়ানোর জন্য এটি খুবই কার্যকর একটি উপায়। ওয়াই-ফাইয়ের সেটিংস অপ্টিমাইজ করে নেয়া যেতে পারে। কাছাকাছি নেটওয়ার্ক ব্যবহারে সমস্যা এড়াতে চ্যানেল অ্যাডজাস্টমেন্ট করা যেতে পারে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ