সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া ও পরাজিত প্রার্থী সাইদুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া এলাকায় এ এ সংঘর্ষ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এই এলাকায়। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মো. আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া নবনির্বাচতি উপজেলা চেয়ারম্যান। সাইদুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, স্থানীয় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গত ৫ জুন চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইদুর রহমান।
সংঘর্ষের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন দুই পক্ষ। একপক্ষ বলছেন, বিকাল ৫টায় সাইদুর রহমানের সমর্থক তেলিগাঁও গ্রামের দোকানদার নুরু মিয়া বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের দায়িতাপাড়া বাজারে (নতুন বাজার) আসেন। এসময় রাজ্জাক ভুঁইয়া সমর্থিত সমশের আলীর সাথে নির্বাচন নিয়ে বচসা হয়। এখানে সমশের আলীর লোকজন নুরু মিয়াকে লাঞ্ছিত করে। এর কিছুক্ষণ পর সাইদুর রহমানের সমর্থক হোসেন আলী মেম্বারের ছেলে হারুন (২৮) বাজারে আসে। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা বাছেত ভুঁইয়া (২৯) ও কবিনুর (৩০) রাজ্জাক ভুঁইয়ার আত্মীয়ের মার্কেটের ছাদে হারুনকে নিয়ে মারধর করে।
ঘটনার খবর শুনে সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা হন। তিনি বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে আসা মাত্র প্রতিপক্ষের লোকজন কতৃর্ক হামলার শিকার হন।
সাঈদুর রহমান তাৎক্ষণিক দাবি করেন, আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়ার ভাতিজা সাবেক সাবেক চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের নেতৃত্বে তার বাড়িঘরে হামলা হয়েছে। হামলায় সাইদুর রহমান (৬০) নিজে, তার সঙ্গে থাকা হারুন (২৮), আজমির রহমান (৫০), ছেলে অ্যাড. আরিফুর রহমান ঝিনুক (২৭) ও কামাল মিয়া (৪০) আহত হন।
সংঘর্ষে রাজ্জাক ভুঁইয়ার পক্ষের বাছেত ভুঁইয়া (২৯), আনোয়ার (২৯), হুমায়ুন (২৮), অমি (২৭), আমিনুল ইসলাম আহত হয়েছেন।
জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ বলেন, আমরা কাউকে হামলা করিনি। সাইদুর রহমানের লোকজন আমার ভাতিজা বাছেত ভুঁইয়ার (২৯) ওপর হামলা চালিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া বলেন, আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। পরাজিত প্রার্থী সাইদুর রহমান বাড়ি থেকে লাঠিসোটা নিয়ে তিনিসহ তার লোকজন রামদা-কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বাজারে এসে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালান। এতে আমার নাতি বাছেত ভূঁইয়া ও আমার সমর্থক আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। সাইদুরের বাড়িঘরে কেউ হামলা করেনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধ্যনগর থানার ওসি মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথার কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষেই কয়েকজন আহত হয়েছে জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।