প্রতি বছর নতুন বাজেট ঘোষণার পর বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ে বা কমে। সরকার কিছু পণ্যে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করে। ফলে সাধারণত সেসব পণ্যের দাম কমতে দেখা যায়। আবার কিছু পণ্যে নতুন করে করারোপ করার ফলে বেশ কিছু পণ্যেরই দাম বেড়ে যায়। এবারও কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আর কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার ২০২৪-২৫ বাজেট অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন। আগামী ৩০ জুলাই বাজেট পাস হতে পারে।
এবারের বাজেটে কিছু পণ্যে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট অথবা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোন প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে সেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু পণ্যে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট অথবা সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে সেসব পণ্যের দাম কমতে পারে।
দাম কমতে পারে যেসব পণ্যে
ডায়ালাইসিস ব্যয়: কিডনি রোগীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে এবারের বাজেট। ডায়ালাইসিসের প্রধান দুই উপকরণ ফিল্টার ও সার্কিটে থাকা ১০ শতাংশের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে।
প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধ: দুই ধরনের গুঁড়া দুধ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-করের পার্থক্য অনেক বেশি থাকায় আড়াই কেজি পর্যন্ত প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে।
ল্যাপটপ: ল্যাপটপ আমদানিতে মোট করভার এখন ৩১ শতাংশ। এতে ল্যাপটপ সাধারণের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাড়ছে নকল ল্যাপটপ আমদানি। এ জন্য আমদানি পর্যায়ে আরোপিত মূসক প্রত্যাহার করে করভার ২০ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে পারে।
নির্মাণসামগ্রী: আবাসনসহ বিভিন্ন নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত রড, বার ও অ্যাঙ্গেল তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ম্যাঙ্গানিজ ব্যবহৃত হয়। বাজেটে এসব পণ্য আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
বাজেট ২০২৪-২৫
‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’প্রতিপাদ্যে এবারের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাকি দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে। দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথা বলেন। এগুলোর জন্য তিনি দায়ী করেন কোভিড-পরবর্তী ‘রাশিয়া-ইউক্রেন’ যুদ্ধকে। একইসঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।