চীনে বিক্রি কমায় বিদেশের দিকে নজর মিনিসোর

4

কম মূল্যের পণ্যের জন্য পরিচিত চীনা ব্র্যান্ড মিনিসো অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে বিদেশের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। চীনের ক্রেতাদের গড় ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরে বিশ্বের বড় শহরগুলোয় ৬০০টি মিনিসোর নতুন স্টোর খোলা হবে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

এক সাক্ষাৎকারে রিটেইল চেইনটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এসন ঝাং ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এর সঙ্গে জানান, চীনের বাজারে ৪০০টি নতুন স্টোর খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম দেশের চেয়ে বিদেশে বেশি নতুন স্টোর খুলতে যাচ্ছে মিনিসো।

স্থানীয় বাজারে ভোক্তা বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে চীনের অনেক কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। একই সময়ে চীনে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন রয়েছে আলোচনায়। মিনিসোর নতুন পরিকল্পনা সেই চিত্রেরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের। তবে চীনের কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো বিদেশী বাজারে তুমুল প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে।

ঝাং জানান, চীনের ভোক্তা আচরণ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে ভবিষ্যৎ মজুরি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে তারা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কেননা দেশটির আর্থিক খাত বিভিন্ন কারণে মন্থর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এ মুহূর্তে চীনা অর্থনীতিতে মন্থর প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতি সামাল দেয়া হলো চ্যালেঞ্জিং। এ পর্যায়ে এসে দেশের বাজারে দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ লাল-সাদা লোগোধারী মিনিসোর বৈশ্বিক আউটলেটের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার। এর মধ্যে আড়াই হাজারের কাছাকাছি স্টোর রয়েছে চীনে। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া প্রতিটি মহাদেশেই মিনিসোর বিচরণ রয়েছে, তবে সবচেয়ে বড় বাজার হলো এশিয়া।

এসন ঝাং জানান, মিনিসোর বিক্রি চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদারও প্রতিফলন। এমন অনেক ক্রেতা আছেন, যারা শপিং মলে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। তাদের একটি অংশ মিনিসোর ক্রেতা। অর্থাৎ শপিং মল সংস্কৃতির বড় সুবিধাভোগী মিনিসো।

মিনিসো মূলত লাইফস্টাইল পণ্য বিক্রি করে। ইলেকট্রনিকস ও পানির বোতল থেকে শুরু করে খেলনা, প্রসাধনী ও স্ন্যাকস রয়েছে এর বিস্তৃত তালিকায়। তাদের মজুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্ভেল, হ্যালো কিটি ও ডিজনির মতো ব্র্যান্ড থেকে পাওয়া লাইসেন্সের অধীনে উৎপাদিত পণ্য।

ঝাংয়ের মতে, বিপণন পদ্ধতি মিনিসোকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে এগিয়ে রেখেছে। কেননা অন্য কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে আনব্র্যান্ড স্বল্প মূল্যের পণ্যকে ফোকাস করে। সেখানে মিনিসো নিজেই একটি ব্র্যান্ড। কোম্পানিটি আশা করছে, দুই-তিন বছরের মধ্যে মোট পণ্যের অর্ধেকই বিক্রি হবে বিদেশে, যা গত বছর ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ।