বিশ্ববাজারে রোবাস্তা কফির দাম বেড়েছে

5

আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে রোবাস্তা কফির দাম। প্রতিকূল আবহাওয়া, চাষ কমে যাওয়া ও এশিয়ার দেশগুলোয় ব্যবহার বৃদ্ধি এ পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সম্প্রতি বাজার বিশ্লেষকদের এক পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

এপ্রিলের শেষের দিকে লন্ডনের ফিউচার মার্কেটে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে রোবাস্তা কফির দাম। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে, যা গত বছরের শেষ মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলোয় কফি সবচেয়ে ভালো জন্মায়। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলোয় এরই মধ্যে এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে কফি উৎপাদন। ফলে এর সরবরাহ সংকটে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে দাম।

এছাড়া মূল্যবৃদ্ধির আরেক কারণ ইউরোপীয় ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর উচ্চ মূল্যের অ্যারাবিকা জাতের পরিবর্তে বেশি পরিমাণে রোবাস্তা কফির আমদানি। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জাপানের ট্রেডিং হাউজ মারুবেনি এ তথ্য জানিয়েছে। অ্যারাবিকা জাতের কফি মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপাদন হয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান পরিবহন ও জ্বালানি খরচের কারণে তুলনামূলকভাবে সস্তা মূল্যের রোবাস্তা আমদানির দিকে ঝুঁকছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের এ কোম্পানিগুলো।

এদিকে ভিয়েতনামে কফি চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। ফলে এটি প্রভাব ফেলছে কফির মূল্যবৃদ্ধিতে। ভিয়েতনাম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কফি বিন ও বৃহত্তম রোবাস্তা কফি উৎপাদক। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির কৃষকরা কফির পরিবর্তে ডুরিয়ান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ডুরিয়ান চাষের দিকে কৃষক বেশি মনোযোগ দেয়ায় কফি চাষের জন্য জমির পরিমাণও কমেছে।

ডুরিয়ান সাধারণত কাঁটাযুক্ত আবরণ, মিষ্টি স্বাদ ও তীব্র গন্ধের জন্য পরিচিত একটি ফল। সম্প্রতি এটি চীনে খুব জনপ্রিয় হয়েছে। গত বছর চীনে ২ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের ডুরিয়ান রফতানি করেছে ভিয়েতনাম, যা আগের বছরের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। এছাড়া সামনের বছরগুলোয় এটি আরো জনপ্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ কারণেই কফির পরিবর্তে ডুরিয়ান চাষের দিকে নজর দিচ্ছেন কৃষক।

এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা জানিয়েছে, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনাম মোট কফি উৎপাদন করেছে ২ কোটি ৯২ লাখ কেজি, যা আগের সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম।

দক্ষিণ ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির একজন কফি বিন বিক্রেতা বলেন, ‘‌গরম আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে কফি ভালোভাবে বাড়ছে না। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে।’