দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক মূল্য পুনরুদ্ধার ধীর হওয়ার আশঙ্কা

2

দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক মূল্য পুনরুদ্ধার প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে এসব পণ্যের আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার সম্ভাবনা কম। ডাচ বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে কম দামের কারণে বিপুল পরিমাণে দুগ্ধপণ্যের ক্রয় বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল চাহিদা বাড়লে বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা তুলে আনা। ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় প্রবণতার কারণে ওই সময় দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দাম বেড়ে গিয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম দিকে এ ধারা বজায় ছিল।

রাবোব্যাংক জানায়, চলতি প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দুধের বৈশ্বিক দাম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে। এর আগে চলতি বছর দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দুর্বল চাহিদা এবং চীনে দুধ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় এ প্রত্যাশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। বিশেষ করে চীনে আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় মূল্য পুনরুদ্ধার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চীন চলতি বছরের জন্য দুধ উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। তবে অন্যান্য শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকায় লোকসানের কারণে এরই মধ্যে খামারের সংখ্যা কমে গেছে। অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়া নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপে দুধ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

রাবোব্যাংকের দুগ্ধপণ্যের বাজারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আন্দ্রেস পাডিলা বলেন, ‘‌চাহিদা পুনরুদ্ধার নিয়ে মিশ্র ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাও চাপের মধ্যে রয়েছে। বেশির ভাগ দেশে মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। উচ্চ সুদহার অব্যাহতভাবে ঋণ ও ভোক্তাব্যয়কে চাপের মুখে ফেলছে। চীনে দুর্বল চাকরির বাজার এবং ভোক্তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ায় ভোগের গতিপ্রকৃতি বাধার মুখে পড়েছে।’

গত বছর যেসব ক্রেতা মজুদ করার জন্য কম দামে দুগ্ধপণ্য ক্রয় বাড়িয়েছিলেন তারা বর্তমানে সতর্কতা অবলম্বন করে কেনাবেচা করছেন। এছাড়া বর্তমান দামের কারণে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোয় খুব হিসাব করেই দুগ্ধপণ্য উৎপাদন করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

রাবোব্যাংক জানায়, চলতি বছর চীনে দুগ্ধপণ্যের নিট আমদানি গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি নিম্নমুখী চাহিদা আমদানি কমার পেছনে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ কমে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

নিউজিল্যান্ডে গত মঙ্গলবার গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) চলতি মাসের প্রথম আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম গত মাসের শেষ নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৭০৮ ডলারে।

নিলামে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চেডার পনিরের দর। এটি টনপ্রতি ৪ হাজার ২৫৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা এর আগের নিলামের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি টনপ্রতি ৩ হাজার ৩৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ বেচাকেনা হয়েছে ২ হাজার ৫৫১ ডলারে, যা এর আগের নিলামের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।