মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এআই প্রযুক্তি সম্প্রসারণে চুক্তি করেছে মাইক্রোসফট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষায়িত এআই কোম্পানি জি৪২-এর সঙ্গে এ কৌশলগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। খবর টেকটাইমস।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, জি৪২-এর সঙ্গে এ চুক্তিটি জেনারেটিভ এআই, পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও পরিষেবা সরবরাহে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করবে। এ পরিষেবাগুলো আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি শক্তি ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলোর গ্রাহকের জন্য থাকবে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, জি৪২ কোম্পানিতে অংশীদারত্বের জন্য মাইক্রোসফট ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ জি৪২ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেবেন। এ অংশীদারত্বের মূল উদ্দেশ্য মাইক্রোসফট অ্যাজুরের ক্লাউড পরিষেবা ও এআই সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। এর মাধ্যমে জি৪২ তাদের গ্রাহকের জেনারেটিভ এআই ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোসহ পরিষেবা সরবরাহ করতে পারবে।
অন্যদিকে জি৪২ কোম্পানি তাদের মাইক্রোসফট ক্লাউড পরিষেবার ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের ডাটা প্লাটফর্ম ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো মাইক্রোসফট অ্যাজুরে স্থানান্তর নকরবে। এ পদক্ষেপটি জি৪২-এর পরিষেবার পরিসরকে বাড়িয়ে তুলবে, যা দ্রুত এআই পণ্য উন্নয়নে সুযোগ তৈরি করে দেবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
মাইক্রোসফট বলছে, এআই প্রযুক্তিতে জি৪২ কোম্পানি দক্ষতার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অগ্রগতিকে অর্জন করেছে। এর আগে ২০২৩ সালে জি৪২ মাইক্রোসফট ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহার শুরু করে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংবেদনশীল ডাটা সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গোপনীয়তা আইন মেনে চলতে সহায়তা করেছে।
মাইক্রোসফট সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানায়, জি৪২-এর আরবি ভাষার মডেল জেইস অ্যাজুর এআই মডেল ক্যাটালগে আগামীতে পাওয়া যাবে। ফলে ৪০ কোটিরও বেশি আরবি ভাষাভাষী তখন জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এদিকে জি৪২ কোম্পানির সহায়ক সংস্থা ক্লিনিক্যাল জিনোমিক গবেষণার অগ্রগতির জন্য ব্রড ইনস্টিটিউটের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করছে। মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ব্যবহার করে তারা বিশ্বব্যাপী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নত ওষুধ তৈরিতে অবদান রাখবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরেও মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চলের উদীয়মান বাজারগুলোয় ডিজিটাল রূপান্তর আনতে মাইক্রোসফট ও জি৪২ অংশীদারত্ব ব্যাপক প্রভাব রাখবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে সম্প্রসারিত ডাটা সেন্টারগুলো ডিজিটাল উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে।