শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে

3

শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি গত মাসে রেকর্ড দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় দুই বছর আগের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের পর শূন্যের কোঠায় নেমে এল দেশটির মূল্যস্ফীতির হার। গত ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। শ্রীলংকার পরিসংখ্যান বিভাগ সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

মার্চের শুরুতে আবাসিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ২২ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে বড় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটিতে আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিভাগে মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

শ্রীলংকার জনশুমারি ও পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, খাদ্যের দাম ফেব্রুয়ারির ৩ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে মার্চে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য বাদে অন্যান্য পণ্যের দাম ফেব্রুয়ারির ৭ থেকে মার্চে দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

ফার্স্ট ক্যাপিটালের গবেষণাপ্রধান দিমান্থা ম্যাথিউ বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কমার হার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। আমাদের ধারণা ছিল, এটি কমে প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। তবে ধারণা করছি, চলতি মাসে মূল্যস্ফীতি আবারো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হবে। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতেও সাহায্য করবে।’

২০২২ সালের এপ্রিল নাগাদ ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণখেলাপি হয় শ্রীলংকা। ওই সময় দেশটিতে দেখা দেয় বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট। ফলে নাগরিকদের জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য দ্রব্য আমদানি করতে ব্যর্থ হচ্ছিল সরকার। সে সময়ের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কয়েক মাসব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের শর্তে গত বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে চার বছর মেয়াদি ২৯০ কোটি ডলারের বেইলআউট প্যাকেজ পায় শ্রীলংকা। এরপর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনীতি।

সংকটের পর বার্ষিক হিসাবে শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি এখন সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি উঠেছিল সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশে। পরের বছরের জুলাইয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসে। আগস্টে তা আরো কমে ৪ শতাংশ দাঁড়ায়। এরপর আবারো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও গত মাসে কমে দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়।

শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এক-দেড় বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ থাকবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণ হার এখন ১০ থেকে কমে সাড়ে ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ।