অ্যান্টিভাইরাস হিসেবে উইন্ডোজ ডিফেন্ডারের সক্ষমতা কতটুকু

2

ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটারের সুরক্ষায় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। পেইড ভার্সনের পাশাপাশি এসব সফটওয়্যারের ফ্রি ভার্সনও রয়েছে। নতুন কম্পিউটারে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম হিসেবে ডিফেন্ডার ইনস্টল থাকে। তবে ভাইরাস থেকে শুরু করে সাইবার হামলা, ম্যালওয়্যারের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে এর সক্ষমতা কতটুকু সে প্রশ্ন এখনো রয়েছে।

বর্তমানে মাইক্রোসফটের সব অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার থাকে। আগে এর কার্যক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ডিফেন্ডার বেশ শক্তিশালী হয়েছে।

সবদিক বিবেচনায় উইন্ডোজ ডিফেন্ডার কতটুকু নিরাপদ সে প্রশ্ন সামনে আসে। তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, কোন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ভালো সেটি জানার জন্য সবগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এর জন্য আলাদা গবেষণা দল রয়েছে এবং তারা প্রাপ্ত তথ্য সবার জন্য প্রকাশ করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে এভি টেস্টের উইন্ডোজ অ্যান্টিভাইরাস লিস্ট। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ডিফেন্ডারকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এভি টেস্টে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার অন্য সফটওয়্যারগুলোর তুলনায় ভালো করছে।

প্রযুক্তিবিশারদদের মতো, জিরো-ডে ভালনারেবিলিটি শনাক্ত ও প্রতিরোধ সক্ষমতার মাধ্যমে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যান্য সফটওয়্যার ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ শনাক্ত করতে পারলেও ডিফেন্ডার এদিক থেকে শতভাগ কার্যকর। এছাড়া পরিচিত ভাইরাস থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রেও এর সুনাম রয়েছে।

থার্ড পার্টি যেকোনো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কম্পিউটারের কার্যক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। এদিক থেকেও উইন্ডোজ ডিফেন্ডার এগিয়ে। বেশি ভালো কম্পিউটার না হলেও এটি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। ফলস পজিটিভ বা অপ্রয়োজনে কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিফেন্ডার বাধা দেয় না।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগে কম্পিউটারে থার্ড পার্টি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হলেও এখন ডিফেন্ডারই সব কাজ করছে। এটি ব্যবহার করেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে এজন্য যে অন্য অ্যাপ কার্যকর নয়, সে রকম কিছু বলা হয়নি। বিভিন্ন ফিচারের প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা যাবে।

উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ছাড়াও বাজারে বেশকিছু ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার রয়েছে। পছন্দভেদে সেগুলো ব্যবহার হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাভাস্ট, এভিজি ও বিটডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস।

কম্পিউটারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মে একটি ডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার চালুর কথা জানিয়েছিল মাইক্রোসফট। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড, অ্যাপলের আইওএস মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও অন্যান্য ডিভাইসের জন্যও এ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে কবে নাগাদ এ ডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস আসবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছিল, ডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাসটির কাজ হবে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ম্যালওয়্যার চিহ্নিত করা। পাশাপাশি ফিশিং প্রতিরোধেরও কাজ করবে এ ডিফেন্ডার। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে অন্য সংস্থার মোবাইল পণ্য ব্যবহার করে গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহ করার চেষ্টা করবে প্রতিষ্ঠানটি।