ভিডিও গেমস তরুণদের সৃজনশীলতা বাড়াতে অবদান রাখছে। এজন্য গেমিং নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে সন্তানদের সৃজনশীল প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রোগ্রামিং তৈরিতে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমিস হাসাবিস। তিনি সম্প্রতি নাইট খেতাব পাওয়া ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ও উদ্যোক্তা। খবর বিবিসি।
ডেমিস হাসাবিস প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ২০১৪ সালে ৪০ কোটি পাউন্ডে কিনে নেয় গুগল, যা এখন গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ড হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমিস হাসাবিস জানান, তিনি ছোটবেলা থেকে ভিডিও গেম ও দাবা খেলে বড় হয়েছেন। এ গেমিং তার সফলতার পেছনে অবদান রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘গেম খেলার সঙ্গে সৃজনশীলতা তৈরিও খুব জরুরি। এ কারণে আজকের শিশুদের দ্রুত পরিবর্তনশীল এ বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমরা কেউ জানি না আমাদের আগ্রহ আমাদের কোথায় নিয়ে যেতে পারে। তাই আমার পরামর্শ থাকবে অভিভাবকরা যেন তাদের সন্তানদের আগ্রহের জায়গাটা খুঁজে বের করেন। এরপর সে আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে সন্তানদের দক্ষতা বিকাশ ঘটাতে হবে।’
ডেমিস হাসাবিস ১৯৭৬ সালের জুলাইয়ে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে বোর্ড গেমস বিশেষ করে দাবা খেলায় তিনি দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখান। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে কিশোর বয়সে থিম পার্ক নামের একটি গেম ডিজাইন ও প্রোগ্রাম করেছিলেন, যা পরে তিনি সেটি বিক্রি করে দেন।

স্নাতক শেষ করার পর তিনি একটি ভিডিও গেমস ফার্মও প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি নিউরোসায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০১০ সালে লন্ডনে ডিপমাইন্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা তিনি পরবর্তী সময়ে গুগলের কাছে বিক্রি করে দেন।
সম্প্রতি মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সের পোস্টে তিনি এআই পরিষেবায় অবদান রাখার জন্য নাইটহুড পাওয়ায় ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। দশ বছর আগে গুগলের কাছে ডিপমাইন্ড বিক্রি করে দেয়ার জন্য তার কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি মনে করেন গুগল ফার্মটিকে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার শক্তিসহ সঠিক ব্যবস্থাপনা দিতে পেরেছে, যা সে সময় যুক্তরাজ্যে পাওয়া সম্ভব ছিল না।
অন্যদিকে আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গেমারদের সতর্কবার্তাও দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে গেম খেলে থাকে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গেমাররা দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ভলিউমে গেম খেলার মাধ্যমে নিজেদের শ্রবণশক্তিকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, যা তাদের শ্রবণশক্তির অপরিবর্তনীয় ক্ষতি করে টিনিটাসে পর্যন্ত আক্রান্ত করতে পারে। মূলত চারদিক নিস্তব্ধ থাকার পরও কানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনার এ সমস্যাকে টিনিটাস রোগ বলা হয়।
বিএমজে পাবলিক হেলথে প্রকাশিত এ গবেষণাপত্রে ১৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেখানে মোট ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। এতে দেখা যায়, বেশির ভাগ গেমার গেমিংয়ের সময় ভলিউম অনিরাপদ স্তরে রেখে গেমিং করে থাকে। যদি গেমাররা নিরাপদ ভলিউম স্তরে সাউন্ড কমিয়ে এনে গেমিং করে তাহলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।
গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত ভলিউমে গেমিং করা ব্যক্তির শ্রবণশক্তি হারানোর অন্যতম কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। এজন্য গবেষকরা গেমারদের এ বিষয়ে আরো জনসচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


















