অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে কোকোর বাজারদর

0

কোকোর বৈশ্বিক সরবরাহের সিংহভাগই আসে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে। কিন্তু খরার কারণে অঞ্চলটিতে চকোলেট তৈরির প্রধান উপকরণটির উৎপাদন কমে গেছে। ফলে লাফিয়ে বাড়ছে পণ্যটির দাম। সবশেষ শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে কোকোর বাজারদর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে চকোলেট উৎপাদন কোম্পানিগুলো। খবর বিজনেস ইনসাইডার।

নিউইয়র্কভিত্তিক ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) শুক্রবার দিনের মাঝামাঝি সময়ে কোকোর মার্চে সরবরাহ চুক্তির দাম ওঠে টনপ্রতি ৬ হাজার ডলারে। পরে তা ৫ হাজার ৮৮০ ডলারে নেমে আসে। এর আগে ১৯৭৭ সালে সর্বশেষ রেকর্ড ৫ হাজার ৩৭৯ ডলারে উঠেছিল কোকোর বাজারদর।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আইভরি কোস্ট ও ঘানা বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ কোকো উৎপাদন করে। দেশ দুটি কয়েক মাস ধরেই বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে লড়ছে। তার ওপর কোকোয় রোগবালাইয়ের হারও বেড়েছে। দুই দেশে দুর্বল উৎপাদন পরিস্থিতি বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

ইউরো নিউজের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইভরি কোস্ট ১০ লাখ ৪০ হাজার টন কোকো রফতানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সমীক্ষার তথ্যমতে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ঘানা রফতানি করেছে ৩ লাখ ৪১ হাজার টন কোকো, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম। চলতি কৃষি বর্ষে পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টনে।

শিল্প বিশ্লেষকরা জানান, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় এল নিনোর প্রভাবে তীব্র আকার ধারণ করে খরা, যা চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।