২০২৩টা দারুণ কাটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার প্যাট কামিন্স। অধিনায়ক হিসেবে দেশকে এনে দিয়েছেন ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। নেতৃত্ব ছাড়াও ব্যাট-বল হাতেও ছিলেন দারুণ ছন্দে। আর তাতেই পেয়েছেন দারুণ অর্জন। রিকি পন্টিং, মিচেল জনসন, মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভেন স্মিথের পর পঞ্চম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে প্রথম বারের মতো আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন কামিন্স। জিতেছেন মর্যাদার স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স ট্রফি।
এছাড়া বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কার ‘রচেল ফ্লিন্ট’ ট্রফি জিতেছেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। এছাড়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরম্যাটের বছর সেরা খেলোয়াড়ের নামও জানিয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে।
অস্ট্রেলিয়ার তিন ফরম্যাটের নেতৃত্ব তার কাঁধে ওঠার পর থেকেই দারুণ পারফরম করছে কামিন্স। এর মধ্যে গেল বছরের জুনে ভারতকে হারিয়ে দলকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতান তিনি। তার কয়েক মাস বাদে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যের দেখা পান এই পেসার। সেই ভারতকে তাদের মাটিতে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। আর এ বছর জুড়েই পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাধানো। তাই আগে থেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিল গ্যারফিল্ড সোবার্স তার ঝুলিতেই যাবে। আর হয়েছেও তাই।
এমন অর্জনের পর অজি এই অধিনায়ক বলেন, ‘এটি বিশাল এক সম্মান। দুর্দান্তসব দলীয় পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে বড় একটি বছর কেটেছে। এমন ব্যক্তিগত সম্মান পাওয়াটা আমার কাছে বিশাল অর্থ বহন করে এবং আমি খুবই আপ্লুত। ব্যক্তিগত পুরস্কারের ক্ষেত্রে এটি উপরেই থাকবে। যারা মনোনীত হয়েছেন তারাও দুর্দান্ত এক বছর কাটিয়েছে। সতীর্থ হিসেবে ট্রাভিস হেডকে আমি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল ও বিশ্বকাপ ফাইনাল জিততে দেখেছি এবং দুটোতেই সে ম্যাচ-সেরা ছিল। অসাধারণ এক বছর কাটিয়েছেন সে। জাদেজা ও কোহলি দুই জনেই ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত ছিল। চাপের মুহূর্ত থেকে দলকে বের করা এবং জেতানোর উপায় খুঁজে বের করত তারা। তাই তাদের ছাপিয়ে জিততে পারাটা সত্যিই স্পেশাল।’
এদিকে বর্ষসেরা হওয়া ইংলিশ অলরাউন্ডার ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ২০২৩ সালে তার সেরা সময়টা কাটে ওয়ানডেতে। মাত্র ৬ ম্যাচ খেলে ৩৯৩ রান করেন তিনি ১৩১ গড়ে। যেখানে তিন ম্যাচেই করেন সেঞ্চুরি। বছরে দুই টেস্টে দুটি ফিফটিও করেন ডানহাতি এই ব্যাটার। এছাড়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১৬ রান ছিল তার। আর এমন একটি বছর কাটানোর পর ‘র্যাচেল ফ্লিন্ট’ ট্রফিটি গেল তার ঝুলিতেই।
অন্যদিকে গত বছর ১৩ টেস্ট খেলে ৩ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটিসহ ৫২.৬০ গড়ে ১ হাজার ২১০ রান করেন সতীর্থ ট্রাভিস হেড, ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ইংল্যান্ডের জো রুটকে পেছনে ফেলে টেস্ট ফরম্যাটে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছেন উসমান খাজা। ওয়ানডে বিশ্বকাপের বছরে দারুণ ছন্দে থাকা ভিরাট কোহলি জিতেছেন এই ফরম্যাটে চতুর্থ বর্ষসেরা হওয়ার খেতাব। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বর্ষসেরা হয়েছেন আরেক ভারতীয় ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব।