দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উত্তরণ সম্ভব : ড. সেলিম

324

দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) চট্টগ্রাম শাখা কর্তৃক, ১ ডিসেম্বর, শুক্রবার, রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা এবং ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উত্তরনের উপায়’ শিরোনামে একটি দিনব্যাপি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আইসএমএবি’ বাংলাদেশ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন এফসিএ, এফসিএমএ এর সভাপতিত্বে উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটরস্ অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, বিশেষ অতিথিবৃন্দ ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও আইসিএমএবি এর প্রেসিডেন্ট মোঃ আব্দুর রহমান খান এফসিএমএ, প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, আইল্যান্ড সিকিউরিটিসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এফসিএমএ। সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শান্তা এসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আরিফ খান এফসিএমএ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ একটি কৌশলগত উদ্দেশ্য, যাতে সমষ্টিগত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, ব্যবসার সহজীকরণ ও বিকেন্দ্রীয়করণ, মানব সম্পদের উন্নয়ন ও কারিগরী দক্ষতা ও সৃজনশীলতায় উৎসাহিত করা তথাপি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।’

সভাপতির বক্তৃতায় ড. সেলিম বলেন, এক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভবিষ্যতের এ যাত্রাকে আরো গতিশীল করছে। বর্তমানে, এটি ৪১তম এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ছিল মাত্র $৭৯.৬১ বিলিয়ন, কিন্তু ২০২২ সালে তা $৪৬৫ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, যা গত ১৫ বছরে ৫.৮ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং উন্নত অবকাঠামো এই বৃদ্ধিতে আশাতীত অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তোরনের সমস্ত মানদণ্ড পূরণ করেছে এবং ২০২৬ সালে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে৷ বাংলাদেশ আগামী আগামী দশকে একটি ‘উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশ’ হওয়ার জন্য তার লক্ষ্য স্থির করেছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘উন্নত দেশ’ তথা একটি ‘স্মার্ট নেশন’ এ রুপান্তর হবে।

তিনি আরো বলেন, শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি, শক্তিশালী শিল্প প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ, সমৃদ্ধিশীল বেসরকারি খাত, বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধির গতিতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা, অনুকূল জনসংখ্যা, জ্ঞান-ভিত্তিক শিল্প অগ্রগতি, ব্যবহার বৃদ্ধি, দৃঢ় স্থিতিস্থাপকতা, ক্রমবর্ধমান মধ্যম শ্রেনী, স্বল্প শ্রম খরচ বিবেচনা করে এবং বর্তমান ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ৬% এর উপর অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং প্রবৃদ্ধি ৮% এর উপরে গেলে ২০৩০ সাল নাগাদ তা অর্জিত হবে।

‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি হওয়ার জন্য টেকসই অর্থায়নের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোঃ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, এফসিএমএ। সেশনটি পরিচালনা করেন মোঃ ইমতিয়াজ আলম এফসিএমএ; আলোচক ছিলেন মোঃ কাউসার আলম এফসিএমএ।’

‘স্মার্ট অর্থনীতির জন্য সমন্বিত প্রতিবেদন’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোঃ ইলিয়াস আহমেদ এফসিএমএ এবং ড. অদিতি হালদার। সেশনটি পরিচালনা করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এফসিএমএ।

আইসিএমএবি ফেলো ও অ্যাসোসিয়েট সদস্যবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী, সরকারী এবং আধা-সরকারী অফিসিয়াল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।