ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ন

ফেসবুকে নিরাপদ থাকার কিছু উপায়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ফেসবুকের ব্যবহারকারীই বেশি। প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বাড়ছে। সাইবার হামলা ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়ও মুখ্য হয়ে উঠছে। তাই অনলাইনে যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিরোধে ও শেয়ার করা তথ্যের সুরক্ষায় সচেতনতা অবলম্বন জরুরি।

ফেসবুকে নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিরাপত্তা টুল বা পদ্ধতি রয়েছে। এর প্রতিটিই ফেসবুকের ডেস্কটপ বা স্মার্টফোন অ্যাপ থেকে সহজে ব্যবহার করা যাবে।

ওয়াজ দ্যাট মি? (এটা কি আমি ছিলাম?)

হোয়্যার ইউ আর লগড ইন সুবিধাটির মাধ্যমে ব্যবহারকারী কোন অবস্থান ও ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগ ইন করেছে, তা দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের যেকোনো অস্বাভাবিক কার্যক্রম বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে চিহ্নিত করা যাবে। এছাড়া অপরিচিত কোনো স্থান থেকে লগইন হওয়া ডিভাইসকে নট মি হিসেবে বেছে নেয়ার মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা যাবে।

ইজ দ্যাট ইউ? (এটা কি আপনি?)

অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতের সেরা উপায় হলো অপরিচিত লগইনের জন্য অ্যালার্ট চালু করা। গেট অ্যালার্টস অ্যাবাউট আনরিকগনাইজড লগইনস ফিচারটি চালুর মাধ্যমে অপরিচিত কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন করা হলে সেই মুহূর্তেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, মেসেঞ্জার ও নিবন্ধিত ই-মেইলে একটি নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। ফলে অস্বাভাবিক যেকোনো কার্যক্রম দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ হয়।

পাসওয়ার্ডের বিষয়ে উদাসীন হওয়া

অনেকেই মনে রাখার সুবিধার্থে সহজ এবং নিজের বিশেষ কোনো স্মৃতির (জন্মদিন, বার্ষিকী, প্রিয়জনের নাম) সঙ্গে মিল রেখে পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকেন, যা সহজেই অনুমান করে নেয়া যায়। তাই অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি হ্যাকারদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য সংখ্যা, বিভিন্ন চিহ্ন ও শব্দ ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘ ও বিভিন্ন চিহ্ন মিলিয়ে দেয়া পাসওয়ার্ড চুরি করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে।

পাসওয়ার্ড তৈরিতে লক্ষণীয় বিষয়

ফেসবুকের পাসওয়ার্ড ই-মেইল বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো অন্যান্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ডের চেয়ে ভিন্ন হওয়া উচিত।

পাসওয়ার্ড যত দীর্ঘ, ততই নিরাপদ

পাসওয়ার্ড নির্বাচনের সময় ই-মেইলের ঠিকানা, ফোন নম্বর বা জন্মদিনের মতো অনুমেয় তথ্যগুলোর ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

দুই স্তরের নিরাপত্তা

ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে আরো নিরাপদ করে তুলতে চাইলে এর টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা টুএফএ সুবিধা ব্যবহার করা যায়। ফলে অন্য কেউ লগইনের চেষ্টা করলে সেটি আসল ব্যবহারকারী কিনা, তা নিশ্চিতে দুটি ধাপ পার করতে হবে। সাধারণত প্রথম ধাপে পাসওয়ার্ড প্রবেশের পর দ্বিতীয় ধাপে ব্যবহারকারীকে একটি লগইন কোডও প্রবেশ করতে হবে, যা ওই ব্যবহারকারীর নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বরে টেক্সট মেসেজ বা ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) হিসেবে পাঠাবে ফেসবুক।

ক্ষতিকর সফটওয়্যার থেকে সতর্ক থাকা

যেকোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে সেটি বিশ্বাসযোগ্য কিনা তা যাচাই করতে হবে। এজন্য ওয়েব ব্রাউজারটি হালনাগাদ করে রাখতে হবে এবং ব্রাউজারের অ্যাড-অনস বা যেকোনো অ্যাপের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তা মুছে ফেলতে হবে। অপরাধপ্রবণ ডেভেলপাররা কার্টুন ইমেজ এডিটর বা মিউজিক প্লেয়ারের মতো বিভিন্ন মজার বা কার্যকর অ্যাপের আদলে ক্ষতিকর অ্যাপ তৈরি করে এবং মোবাইল অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাই এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ