আল্টিমেটামের পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ গাজার দক্ষিণাঞ্চলে চলে গেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। স্থল অভিযান শুরুর আশঙ্কায় পুরো ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গাজা উপত্যকা ঘিরে থাকা ইসরায়েলের রিজার্ভ বাহিনীর সৈন্যরা ‘পরবর্তী পর্যায়ের অভিযানের’ জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে আজ শনিবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে এক ভিডিও কনফারেন্স জানান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন কনরিকাস।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মত স্বল্প সময়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল থেকে বিশাল জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর সম্ভব নয় এবং এতে ‘ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়’ সৃষ্টি হবে বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ সতর্ক করলেও হামাসকে ‘নিশ্চিহ্ন করার’ প্রতিজ্ঞায় অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে আগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
স্থলভাগে সামরিক অভিযান চালানোর লক্ষ্যে গাজার ১১ লাখ মানুষকে দক্ষিণে সরে যেতে গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় ইসরায়েলিরা। তবে হামাস শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ করে গাজাবাসীকে অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে। ওই আল্টিমেটামের মেয়াদ আজ সকাল ৮টায় পার হয়ে গেছে।
সেখানে হাজার হাজার মানুষকে দল বেঁধে উত্তরাঞ্চল ছাড়তে দেখা যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গাধা ও ঘোড়ায় টানা ভ্যান, মালবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আসবাব নিয়ে শহর ছাড়ছে শত শত পরিবার। অনেকে হেঁটে রওনা হয়েছেন। মাইলের পর মাইল দীর্ঘ বাস্তুচ্যুত মানুষের সারি।
ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় গাজায় মৃত্যু বেড়ে ১ হাজার ৮৪৫ জনে পৌঁছেছে। হামাসের অভিযোগ, পলায়নরত বেসামরিক মানুষের ওপরও বোমা ফেলেছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, আগামী দিনগুলোতে তারা গাজা সিটিতে বড় ধরনের অভিযান চালাবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিকরা ফিরে আসতে পারবেন না।
সূত্র- রয়টার্স