আইআরআইডিপি-৩ সুকুকে যে কোনো মূল্যে কেনাবেচার সুযোগ

68

পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন (আইআরআইডিপি)-৩ এর অর্থায়নে সুকুক বা শরিয়াহ বন্ড ক্রেতা ও বিক্রেতার সমঝোতার ভিত্তিতে যে কোনো মূল্যে কেনাবেচা করা যাবে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারে এমন নিয়ম করার কথা জানিয়েছে।

এর ফলে সুকুকের সেকেন্ডারি মার্কেটে আইআরআইডিপি-৩ শরিয়াহ বন্ডের ক্রেতারা চাইলে মেয়াদপূর্তির আগে বাজারভিত্তিক মূল্যে এই বন্ড কেনাবেচা করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পটির এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন হওয়ায় বন্ডটি সম্মতমূল্যে (নেগোশিয়েটেড প্রাইস) কেনাবেচার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

গত বছরের ১৭ এপ্রিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন (আইআরআইডিপি)-৩ এর ‘নির্মাণ ও উন্নয়ন’ নামে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু করে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক বা ব্যাংকের শাখা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ বন্ডটি কিনেছে। শুরুতে শুধু অভিহিত মূল্যে এই সুকুক কেনাবেচার সুযোগ ছিল। এ অর্থায়নকৃত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি।

প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, বার্ষিক ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ রেন্টাল হারে ইসতিসনা ও ইজারা পদ্ধতিতে ৫ হাজার কোটি টাকার আইআরআইডিপি-৩ সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট সুকুক ইস্যু করা হয়।

সরকার প্রথাগতভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বা সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। এসব বন্ড সুদভিত্তিক। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানিগুলো সুদভিত্তিক বন্ড কিনতে পারে না। এ অবস্থায় মুনাফা বা ভাড়াভিত্তিক শরিয়াহ বন্ড ইস্যু করছে সরকার।

আইআরআইডিপি-৩ সুকুকের আগে সুকুকের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সংশ্লিষ্ট একটি প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা তুলেছিল সরকার।