ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর এলপিএল চ্যাম্পিয়ন ক্যান্ডি

লো স্কোরিং ফাইনালেও লড়াইটা হলো জমজমাট। চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জিতে গেলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। এক বল হাতে রেখে ডাম্বুলা অরাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল বি-লাভ ক্যান্ডি।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রোববার ডাম্বুলাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এলপিএলের চতুর্থ আসরের শিরোপা জিতে নেয় ক্যান্ডি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমে ডাম্বুলা করতে পারে ১৪৭ রান। এলপিএলের চার আসর মিলিয়ে ফাইনালে যা সর্বনিম্ন স্কোর। ১ উইকেটে ৯৪ রানের শক্ত অবস্থান থেকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ক্যান্ডি। তবে আসিফ আলির ১০ বলে ১৯ রানের ক্যামিও আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ম্যাথিউসের ২১ বলে অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংসে ১ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি।

প্লে অফে আগের দুই ম্যাচে জয়ের নায়ক ও ক্যান্ডির নিয়মিত অধিনায়ক ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ফাইনালে খেলতে পারেননি হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে। তবু আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার। ফাইনাল না খেলেও তাই টুর্নামেন্ট সেরা তিনিই।

১০ ম্যাচের ৯ ইনিংসে ব্যাটিং করে ১৮৯.৭৯ স্ট্রাইক রেটে হাসারাঙ্গা করেন ২৭৯ রান। সবচেয়ে বেশি ১৪টি ছক্কা মারেন তিনিই। বল হাতে ১০ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৫.৫১ রানের খরচায় তার প্রাপ্তি ১৯ উইকেট। এলিমিনেটর ম্যাচে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে গড়েন এলপিএল রেকর্ড। আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ উইকেট হাসারাঙ্গারই সতীর্থ পেসার নুয়ান প্রদিপের।

উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব বেশি সহায়ক ছিল না। যে কারণে লম্বা সময় উইকেটে থেকেও সুবিধা করতে পারেননি ডাম্বুলার কেইউ। কুসল মেন্ডিস ২৩ বলে করেন ২২ রান। সামারাবিক্রমারা ৩০ বলে ৩৬। ২৫ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন কুসল পেরেরা। ২৯ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংসটি আসে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাট থেকে। তবে ইনিংসে নেই একটিও চারের মার, ছক্কা তিনটি। ৪ উইকেটে ১৪৭ রান করতে পারে তারা। ২৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে ক্যান্ডির সফলতম বোলার চতুরাঙ্গা ডি সিলভা।

জবাবে ২২ বলে ২৬ রান করে দলীয় ৪৯ রানের সময় বিদায় নেন ওপনার মোহাম্মাদ হারিস। আরেক ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস যখন ৩৭ বলে ৪৪ রান করে ফেরেন দল তখন শক্ত অবস্থানে। কিন্তু দ্রুতই তার পথ ধরেন দিনেশ চান্দিমাল (২২ বলে ২৪) ও চতুরাঙ্গা ( ৪ বলে ০)। এরপর চাপে পড়া দলকে এগিয়ে নেন ম্যাথিউস। ছোট্ট ইনিংস খেলার পাশাপাশি দলকে দারুণ নেতৃত্ব দেওয়ায় ম্যাচসেরাও তাই এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ডাম্বুলার সেরা বোলার নুর আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ডাম্বুলা অরা: ২০ ওভারে ১৪৭/৪ (আভিশকা ৫, কুসাল মেন্ডিস ২২, সামারাবিক্রমা ৩৬, কুসাল পেরেরা ৩১*, ধনাঞ্জয়া ৪০, রস ২*, ম্যাথিউস ২-০-১১-০, মুজিব ৪-০-২৪-০, প্রদিপ ৪-০-৩০-১, চতুরাঙ্গা ৪-০-২৫-২, হাসনাইন ৪-০-৩৮-১, কামিন্দু মেন্ডিস ২-০-১৬-০)।

বি লাভ ক্যান্ডি: ১৯.৫ ওভারে ১৫১/৫ (হারিস ২৬, কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪, চান্দিমাল ২৪, ম্যাথিউস ২৫*, চতুরাঙ্গা ০, আসিফ ১৯, মাদুশঙ্কা ৫*; বিনুরা ৪-০-৩১-২, ধনাঞ্জয়া ৩-০-১৬-০, মাদুশান ২.৫-০-৩০-০, হেইডেন ৩-০-৩০-০, নুর ৪-০-২৭-৩, হেমন্থ ৩-০-২১-০)।

ফল: বি লাভ ক্যান্ডি ৫ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন।

ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (বি-লাভ ক্যান্ডি)।

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: ভানিন্দু হাসারাঙ্গা (বি-লাভ ক্যান্ডি)।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ