মিরপুর টেস্টে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে দেড়শর নিচে গুটিয়ে দিয়ে ফলো-অনের সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা করেনি লিটন দাসের দল। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানরা অল আউট হয়েছে ১৪৬ রানে। ২৩৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামবে বাংলাদেশ।
আফগানিস্তান ইনিংস-
দ্বিতীয় দিনের সকালে বড় কাজটা করে দিয়েছিলেন আফগানিস্তানের বোলাররা। বাকি দায়িত্বটা ছিল ব্যাটারদের। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে বেশিক্ষণ বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি।
শুরুটা দেখে শুনে করলেও আফগানিস্তানকে প্রথম ধাক্কা খেতে হয় শরিফুলের তৃতীয় ওভারে। এই পেসারের ছোড়া অফ স্টাম্পের বাইরের এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন ইবরাহিম জাদরান। এই ওপেনারকে বিদায় করে ক্রিস্টিয়ানো রোলান্ডোর মত সেলিব্রেশন করেন তিনি।
এরপরের ওভারে নিজের প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসে আরেক ওপেনার আব্দুল মালিককে বিদায় করেন এবাদত হোসেন। দারুণ এক বাউন্সারে এই ব্যাটারকে বিপদে ফেলেন তিনি। এবাদতের গতিময় বাউন্স সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে স্লিপে জাকিরকে ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি।
একটু পর আবারও আফগান শিবির হানা দেন এবাদত হোসেন। তার করা শর্ট বলে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন ৯ রানে থাকা রহমত শাহ। ক্যাচটি লুফে নেন তাসকিন আহমেদ। ৩৫ রানে তিন উইকেটে হারিয়ে লাঞ্চে যায় আফগানিস্তান।
লাঞ্চের পরও ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারছে না আফগানিস্তান। এবাদত-শরিফুলদের পেস সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছিল তারা। দলীয় রান পঞ্চাশ পার হতে আবারও উইকেট হারায় দলটি। এবার ফিরে যান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি।
শরিফুলের লেংথ ডেলিভারির বাউন্স সামাল দিতে পারেননি শহীদি। চতুর্থ স্টাম্পে করা বলটি তার ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে চলে যায় বল। লাফিয়ে ক্যাচটি লুফে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৬ বলে ৯ রানে ফিরে যান শহীদি। এরপর সফরকারীদের চতুর্থ উইকেট তুলে নিতেও বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ।
মেহেদী হাসান মিরাজের করা অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল টার্ন করে সরাসরি আঘাত হেনেছিল নাসির জামালের প্যাডে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই সঙ্গে সঙ্গে মিরাজের উৎযাপন শুরু হয়। আম্পায়ারও আঙুল তুলতে দেরি করেননি। অবশ্য এরপর রিভিউ নেন জামাল।
রিপ্লেতে দেখা যায় বল পিচিং ও ইমপ্যাক্ট ছিল জায়গা মতোই। তবে স্টাম্পে লাগত আলতোভাবে। তবুও আম্পায়ার্স কলের কারণে সাজঘরে ফিরতে হয় ৩৫ রান করা জামালকে। তাতে আফসার জাজাইয়ের সঙ্গে তার ৬৫ রানের জুটি ভাঙে।
আফগানিস্তানের আরেকটি উইকেট ফেলেন ইবাদত। তার করা খাটো ল্যান্থের ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন আফসার জাজাই। কিন্তু ব্যাটে বলে তা না হলে ডিপ স্কয়ারে ফিল্ডিং করতে থাকা শরিফুলের হাতে ধরা পড়েন। আফসারের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।
এরপর আবারও আঘাত হানেন ইবাদত। এবার তার শিকার আমির হামজা। ইবাদতের মাথা বরাবর বল হামজার গ্লাভসে লেগে হাওয়ায় ভাসছিল। শর্ট লেগে থাকা মুমিনুল ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই ক্যাচ নিয়েছেন। এরপর তাইজুল ইসলামের প্রথম শিকার হয়ে ফিরে যান ইয়ামিন আহমাদজাই।
৮ উইকেট হারিয়ে এখন চা বিরতিতে যায় আফগানিস্তান। বিরতির পর এসে দ্বিতীয় ওভারেই তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন নিজাত মাসুদ। শেষ উইকেট হিসেবে করিম জানাতকে স্টাম্পিংয়ে বিদায় করে ১৪৬ রানে সফরকারীদের গুটিয়ে দেন মিরাজ।
বাংলাদেশ ইনিংস-
৩৬২ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নেমে লিটন দাসের দল অল আউট হয়েছে ৩৮২ রানে। দ্বিতীয় দিন মাত্র ৭ ওভার ব্যাটিং করতেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ঘণ্টায় মাত্র ৪৫ মিনিটের মত ব্যাটিং করতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। এদিন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদি হাসানের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে অন্তত ৪৫০ রানের পুঁজি পাওয়ার লক্ষ্যে নেমে দিনের চতুর্থ ওভারে মিরাজকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান ইয়ামিন আহমাদজাই। ৪৮ রান করে আমির হামজার বলে আউট হন তিনি। এরপরের ওভারে মুশফিকুর রহিমকে ফেরাতেও সময় নেননি আফগানরা।
৪৭ রানে নিজাত মাসুদের তৃতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে আরও বিপদে ফেলেন এই পেসার। ২ বল পর তাইজুলকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি। নীচের দিকের ব্যাটাররা চেষ্টা করেও দলকে ৪০০’র ঘরে নিতে পারেননি।
তাসকিন আহমেদ মাত্র ২ রান করে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন। আর শেষ উইকেট হিসেবে নিজাতের বলে বোল্ড হন শরিফুল। টেস্ট অভিষেকে ৫ উইকেট তুলে নেন নিজাত। ৩৮২ রানে থামে বাংলাদেশ। ৭৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন নিজাত। টেস্ট ইতিহাসে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
এছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটের ১৬৭তম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নেয়ার তালিকায় নাম লেখান নিজাত। আর অভিষেকে এক টেস্টের দুই ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি আছে মাত্র ১১ জনের। যদিও এই তালিকায় এখনও আফগানিস্তানের কেউ নেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস): ৩৮২ অল আউট (শান্ত ১৪৬, জয় ৭৬) (মাসুদ ৫/৭৯)
আফগানিস্তান (প্রথম ইনিংস): ১৪৪/৮ (৩৬ ওভার) (নাসির ৩৫, আফসার ৩৬) (ইবাদত ৪/৪৭)