কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে কানাডা-সৌদি আরব

9

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চলেছে সৌদি আরব ও কানাডা। নতুন করে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়েও একমত হয়েছে দেশ দু’টি। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি) বুধবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নভেম্বরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জিএসির বিবৃতি থেকে জানা যায়, সে সময় এ দুই নেতা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এপেক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও কল্যাণের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠা করবে কানাডা ও সৌদি আরব।

সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে রিয়াদে নতুন করে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে কানাডা। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার একই ধরনের বিবৃতি দিয়ে টুইট করেছে।

২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যায় সৌদি আরবের নিন্দা জানিয়েছিল কানাডাসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশ। একই বছর রিয়াদে কানাডার দূতাবাস থেকে সৌদি আরবের আটককৃত নারী অধিকারকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করেন কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় অটোয়া থেকে রাষ্ট্রদূত ফিরিয়ে নেয়াসহ নতুন বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রিয়াদ। বিষয়টিকে ‘শাস্তিমূলক বাণিজ্য প্রত্যাহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তবে বিরোধের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়েছিল সে বিষয়ে স্পষ্ট জানা যায়নি।

২০২১ সালে আরব দেশ গুলোর মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে কানাডা। সরকারি তথ্যমতে, সে বছর কানাডা প্রায় ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি ও ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে সৌদি আরব থেকে। কানাডার বেশিরভাগ আমদানি ছিলো তেল ও পেট্রোকেমিক্যালজাত পণ্য। অপরদিকে সৌদি আরবের আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পরিবহণ সরঞ্জাম।সূত্র: আরব নিউজ