থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচনকে বিশ্লেষকরা দেশটির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে “গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন” বলে অভিহিত করেছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় দেশের ৯৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে এই ভোট গ্রহণ শুরু হয়। প্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে আছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানায়, নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ সদস্যকে নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ৫ কোটি নিবন্ধিত ভোটার। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭০টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় দল থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নাও করতে পারে।
এবারের নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে আছেন থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। ৩৬ বছর বয়সী এই নারী তার বাবার পৃষ্ঠপোষক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন এবং সেই সঙ্গে দেশের গ্রামীণ, নিম্ন-আয়ের অঞ্চলগুলোর মানুষের প্রতি জনদরদী বার্তা দিয়ে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।
টেলিকমিউনিকেশন বিলিয়নিয়ার থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে থাইল্যান্ডের অনেক নিম্ন-আয়ের মানুষই পছন্দ করেন। কিন্তু থাই অভিজাতদের কাছে তিনি অনেক বেশি অপ্রিয় একজন ব্যক্তি। ২০০৬ সালে দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে থাকসিনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। সেসময় বিরোধী দলগুলো তাকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। কিন্তু থাকসিন সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ২০০৮ সাল থেকে তিনি লন্ডন ও দুবাইয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পেতংতার্ন বিবিসিকে বলেন, আমার মনে হয় দীর্ঘ আট বছর পর দেশের জনগণ এখন শুধু দেশের জন্য ভালো রাজনীতি এবং ভালো সমাধান চায়। তারা শুধু সামরিক অভ্যুত্থান চায় না।
অন্যদিকে, দেশটির জনমত জরিপে অনেকটাই এগিয়ে আছে ৪২ বছর বয়সী প্রাক্তন টেক এক্সিকিউটিভ পিতা লিমজারোয়েনরাত এর নেতৃত্বে মুভ ফওয়ার্ড নামক দলটি। দলটির তরুণ, প্রগতিশীল এবং উচ্চাভিলাষী প্রার্থীরা একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী বার্তা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তা হলো- থাইল্যান্ডে পরিবর্তন আনতে হবে।
তবে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়েছেন ৬৯ বছর বয়সী প্রায়ুথ। ২০১৪ সালে কয়েক মাসের ক্ষুদ্ধ-বিশৃঙ্খলতার পর থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তিনি।
২০১৯ সালেও একবার থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, কোনো দলই বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি। এর কয়েক সপ্তাহ পরে একটি সামরিক সমর্থক দল সরকার গঠন করে এবং প্রায়ুথকে একটি প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে। তবে বিরোধীরা এই প্রক্রিয়াকে ন্যায়বিরুদ্ধ হিসেবেই আখ্যা দেয়।