ভিড় নেই টিকেট কাউন্টারে। থাকার কথাও নয়। সিরিজের নিষ্পত্তি আগেই হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচটাই যখন নিতান্ত আনুষ্ঠানিকতা, সেই ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ থাকবে কেন চট্টগ্রামবাসীর! তা ছাড়া সাগরিকাখ্যাত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সবশেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে টিম বাংলাদেশের যা পারফরম্যান্স ছিল, এত অল্প সময়ে সেই দুঃস্মৃতিও তো ভুলে যায়নি বন্দরনগরীর ক্রিকেটপ্রেমীরা। মিরপুরে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ায় টাইগারদের নিয়ে আশাবাদী হতে পারছে না তারা, দলীয় অধিনায়ক এবং চট্টগ্রামের ছেলে তামিম ইকবাল শেষটা রাঙানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও না।
গত ডিসেম্বরে ভারত সিরিজের শেষ ম্যাচটা ছিল সাগরিকায়। মিরপুরে রোহিত-কোহলিদের টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে দেওয়া টাইগাররা বিধ্বস্ত হয় ইশান কিষানের ব্যাটে, শার্দূল-অক্ষর-উমরানদের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে। বল হাতে ভারতীয়রা এতটাই দাপুটে ছিলেন যে এক ইশানের ২১০ রানের ইনিংসও ছুঁতে পারেনি টাইগার শিবিরের ১১ ব্যাটার মিলে। ওই ম্যাচটির পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তবুও কিছুটা লড়াই গড়েছিল তামিম ব্রিগেড, দ্বিতীয়টিতে তো মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারেনি। যে কারণে ঘরের মাঠে ২০১৬ সাল থেকে টানা সিরিজ জয়ের ছন্দে ছেদ পড়েছে। এবার তো চোখ রাঙাচ্ছে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা।
২০১৪ সালের পর ঘরের মাঠে প্রথমবার এমন লজ্জার মুখে দাঁড়িয়েও রোববার আনুষ্ঠানিক অনুশীলন পর্ব রাখেনি টাইগাররা। যদিও ঐচ্ছিক অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন স্কোয়াডের প্রায় সবাই। ম্যাচ ভেন্যুতে ব্যাট-বলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন তারা। সম্পর্ক শীতল হওয়ার পরও সাকিব আল হাসানকে ডেকে নিয়ে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে সাগরিকার উইকেট দেখেছেন তামিম। সাধারণত এখানকার উইকেট ব্যাটিংবান্ধব। তবে স্পিনাররা কিছু সুবিধা পান। আজকের ম্যাচে উইকেটের চরিত্র খুব বেশি বদলে যাওয়ার কথা নয়। টাইগারদের প্রস্তুতি হয়েছে বিষয়টা মাথায় রেখেই।
এমনিতে সাগরিকা টাইগারদের জন্য পয়া ভেন্যু। এখানে খেলা ২৪ ওয়ানডের ১৫টিই জিতেছে তারা। দুটো হারের বিপরীতে একটি জয় আছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও। তাই আত্মবিশ্বাস নিয়েই শেষ ভালোর আশায় বাংলাদেশ। দলের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ শেষটা ভালো চাইলেন ভবিষ্যতে চোখ রেখে, ‘আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজতে হবে এখান থেকে। সামনে বিশ্বকাপ। আমাদের হাতে দুটি সিরিজ আছে আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখাতে হবে।’