বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের অন্যতম একটি দিক হচ্ছে এর ক্যামেরা। এটি যত উন্নত গ্রাহককে আকৃষ্ট করা তত সহজ। সম্প্রতি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ক্যাটাগরিতে গ্যালাক্সি এস২৩ সিরিজ উন্মোচন করেছে স্যামসাং। এ সিরিজের ডিভাইসগুলোয় উন্নত ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তিবিদ ও বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ক্যামেরার ওপরই নির্ভর করছে দক্ষিণ কোরিয়ার এ প্রযুক্তি জায়ান্ট। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্যামসাং স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ক্যামেরার রেজল্যুশন ও ছবির গুণগত মানোন্নয়নে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। মূলত অ্যাপলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও ভিন্নতা আনতেই এ প্রচেষ্টা। অন্যদিকে গ্যালাক্সি এস সিরিজের ক্যামেরা উন্নয়নে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানটিও উন্নয়নের বিষয়ে আশাবাদী।
স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মোবাইল এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চো সুং-দাই বলেন, ‘আমাদের ক্যামেরা সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেকোনো সময়ে উন্নত ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবে। গ্যালাক্সি এস২৩ সিরিজে যে শুধু ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে তা নয়, কিন্তু এটি ব্যবহারকারীদের আরো উন্নত ক্যামেরা অভিজ্ঞতা দেবে।
আগের এস২২ সিরিজের তুলনায় এস২৩-এর পোর্ট্রেইট মোডে আরো পরিবর্তন আনা হয়েছে, ফলে রাতেও ভালো ছবি ধারণ সম্ভব হবে বলে দাবি স্যামসাংয়ের। চো-এর মতে, শুধু ট্রাইপড ব্যবহার করে গ্রাহক রাতের আকাশে থাকা নীহারিকা ও ছায়াপথের ছবি ধারণ করতে পারবে এবং পেশাদার মানের ভিডিও ধারণ করতে পারবে। বাজারে নতুন উন্মোচিত হওয়া ডিভাইস কোন কোন দিক থেকে অ্যাপলের তুলনায় শক্তিশালী—এমন প্রশ্নের জবাবে চো তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো নাইটোগ্রাফি সক্ষমতা, জুম করার সক্ষমতা ও স্থিতিশীল ভিডিও ধারণ ফিচার। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এস২৩ সিরিজের ডিভাইসগুলোর ক্যামেরাগুলো রাতে বা কম আলোয় উন্নত ফটোগ্রাফিক অভিজ্ঞতা দেবে। এছাড়াও ভিডিওতে জুম করার পর পিক্সেল কমে যাওয়া বা ঘোলা হয়ে যাওয়ার সমস্যাও কমে এসেছে। চো সুং-দাই জানান, সব দিকে ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরায় ডাবল অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা হয়েছে।
চো একজন ক্যামেরা বিশেষজ্ঞ। ২০০৪ সালে তিনি সিনিয়র গবেষক হিসেবে স্যামসাংয়ে যোগদান করেন এবং গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের ক্যামেরা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম ব্যবহার করি। তবে আমি শুনেছি অনেকেই বলছেন ছবি তোলার জন্য স্যামসাং আর ভিডিও করার জন্য অ্যাপল ভালো। এ ফ্রেমকে ভাঙার জন্য বৈশ্বিকভাবে আমরা একাধিক জরিপ পরিচালনা করেছি।’
জরিপের মাধ্যমে ক্যামেরায় যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে তার মধ্যে সেলফির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। গ্যালাক্সি এস২৩ সিরিজে স্যামসাং প্রথম ফাস্ট অটোফোকাস ও সুপার এইচডিআর সেলফি ক্যামেরা যুক্ত করেছে। এতে যে অবজেক্টনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি রয়েছে তা ফ্রেমে থাকা প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে থাকে।
চো বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ছবি দেখানোর পর সেটি গ্যালাক্সি এস২৩ সিরিজ নাকি অ্যাপলের ফোন দিয়ে তোলা হয়েছে গ্রাহক তা নির্ধারণ করতে পারবে না। তবে স্মার্টফোনে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ব্যবহারকারী হিসেবে স্যামসাং প্রথম প্রতিষ্ঠান নয়। এর আগে চীনের শাওমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান একই বৈশিষ্ট্যের ডিভাইস বাজারজাত করেছে।’