ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ন

প্রযুক্তি খাতের আয় দ্রুত পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ

কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বের ছোট-বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মুনাফা অর্জন করেছে। সে সময় বিক্রিও ছিল অনেক। তবে এর পরের বছর ২০২২ সালে চিপ সংকট, মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি গ্রাহক চাহিদা ও ব্যয় কমায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমতে থাকে। আয় ও ব্যয়ে সামঞ্জস্য আনতে কর্মী ছাঁটাইও শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো ২০২৩ সালে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেও আয় প্রতিবেদন ভিন্ন কথা বলছে। শিগগিরই এ খাতের আয় পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। খবর রয়টার্স।

অ্যাপল থেকে শুরু করে, গুগল ও অ্যামাজন ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে যে আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ তৈরি করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোয় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাহিদা, উচ্চসুদহার এবং জানুয়ারিতে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে আনছে। নাসসেন্ট জানায়, চীনে গ্রাহক ব্যয় পুনরুদ্ধার হতে থাকলেও সেটি সামগ্রিক অবস্থা পরিবর্তনে যথেষ্ট নয়।

বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলেরও আশা ভঙ্গ হয়েছে। মূলত আইফোনের বিক্রি কমে যাওয়া এবং চীনে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়া এর মূল কারণ। অ্যামাজন জানায়, গ্রাহক চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফাও কমবে। অন্যদিকে আলফাবেটের অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতারাও তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য অনেক কমেছে। গুগল, অ্যাপল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটসহ চারটি প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। সম্মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৩ সালে এসঅ্যান্ডপি৫০০-এর ব্রড মার্কেটে নেতৃত্ব দিয়েছে। সূচকটি ৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে অ্যামাজনের ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অ্যাপল, স্টারবাকসসহ অন্য বেলওয়েদারদের কাছ থেকে কিছু বিনিয়োগকারী সিলভার লাইনিং দেখতে পেয়েছেন। সিলভার লাইনিং হচ্ছে একটি ব্যবসায়িক পদ্ধতি। যেখানে ১ লাখ থেকে ২ লাখ ডলার মুনাফা অর্জন ছোট প্রতিষ্ঠানের কিছু দিক নির্ধারণ করে থাকে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক মডেল, এক বছরের আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ, লক্ষ্য পূরণে কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও জবাবদিহিতার বিষয়টি অন্তর্গত। প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, চীনে কভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে আরোপিত লকডাউনের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিক্রি কমেছে।

রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেন, ‘‌ডিসেম্বরে চীনে সবকিছু যখন খুলে দেয়া শুরু হয় তখন আমরা স্টোরগুলোয় নভেম্বরের তুলনায় গ্রাহকের সংখ্যা বাড়তে দেখেছি। তিনি জানান, চীনের লকডাউনের কারণে চাহিদা-উৎপাদন দুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও মার্কিন ডলারের উত্থান-পতনের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হয়েছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ