খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন কমবে তিন কোটি টনেরও বেশি

4

২০২২-২৩ মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদন কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখবে ভুট্টা। এ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় উৎপাদন তলানিতে নামতে পারে। পাশাপাশি নানামুখী প্রতিবন্ধকতায় এবার খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যও লক্ষণীয় মাত্রায় কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বছরের প্রথম খাদ্যশস্যের বাজার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)।

সংস্থাটির দেয়া তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ২২৫ কোটি ৬০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন কম। ভুট্টা উৎপাদন কমতে পারে ৫ কোটি ৮০ লাখ টন। তবে গম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি যব ও জই উৎপাদনও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

তবে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য এক বছরের ব্যবধানে ১ কোটি ৭০ লাখ টন কমার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বাভাসে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৭০ লাখ টন, ২০২১-২২ মৌসুমে যা ছিল ৪২ কোটি ৬০ লাখ টন। এছাড়া খাদ্যশস্যের ব্যবহার কমে ২২৭ কোটি ৫০ লাখ টনে নামতে পারে।

প্রতিবেদন পূর্বাভাস অনুযায়ী, গম উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭৯ কোটি ৬০ লাখ টন। আগের মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৭৮ কোটি ১০ লাখ টন। গত মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ১৯ কোটি ৭০ লাখ টন গমের বাণিজ্য হয়েছিল। এ মৌসুমে তা কিছুটা কমে ১৯ কোটি ৪০ লাখ টনে নামতে পারে। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ৭৮ কোটি ৯০ লাখ টন গম ব্যবহার হতে পারে।

অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ১১৬ কোটি ১০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি, ২০২১-২২ মৌসুমে যা ছিল ১২১ কোটি ৬০ লাখ টন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের দেশগুলোয় শস্যটির উৎপাদন ব্যাপক হারে কমতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ভুট্টার উৎপাদন ব্যয় বেশি। কিন্তু সে তুলনায় শস্যটির দাম অনেক কমেছে। এ কারণে কৃষকরা তুলনামূলক বেশি লাভজনক শস্য উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছেন। আইজিসি বলছে, এ মৌসুমে ভুট্টার বৈশ্বিক বাণিজ্য দাঁড়াতে পারে ১৭ কোটি টনে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৯০ লাখ টন কম।

ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে চাল উৎপাদন কমে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টনে নামতে পারে। ২০২১-২২ মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ টন। শস্যটির বৈশ্বিক বাণিজ্য ১১ লাখ টন কমে ৫ কোটি ১০ লাখ টনে নামতে পারে।

আইজিসি বলছে, গমের পাশাপাশি এবার সয়াবিন উৎপাদনও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টনে, যা আগের মৌসুমের চেয়ে তিন কোটি টন বেশি। মূলত ব্রাজিলে বাম্পার ফলন ও উৎপাদন এই রেকর্ড গড়তে সহায়তা করবে। এছাড়া অন্যান্য দেশেও কম-বেশি উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি মাসে আইজিসির খাদ্যশস্য ও তেলবীজ মূল্যসূচক এক মাসের ব্যবধানে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।