গত সপ্তাহ থেকে রাজধানী দিল্লি-সহ গোটা উত্তর ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। এরমধ্যেই গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই ছিল শীতলতম দিন দেখেছে দিল্লিবাসী। সোমবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এইসঙ্গে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত সাধারণ জনজীবন। সামান্য দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছে না। দৃশ্যমানতার সমস্যায় ট্রেন, বাস, বিমান পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের বেশকিছু জায়গায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে দিল্লি, পাঞ্জাব, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা তিন থেকে ছয় ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে অস্বাভাবিক ঠান্ডা পড়েছে রাজস্থানে। রাজস্থানের বেশকিছু জায়গায় হিমাঙ্কের নিচে পৌঁছায় তাপমাত্রা। রাজস্থানের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ি এলাকা মাউন্ট আবুতে বরফ পড়েছে। থর মরুভূমির প্রবেশপথ বলে পরিচিত চুরুতে তামমান এখন শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, সোমবার সকালে পালমে ও সফদরজংয়ের দৃশ্যমানতা কমেছে ৫০ মিটারে। পাঞ্জাবে অমৃতসর, পাতিয়ালা, আম্বালা ও চণ্ডীগড়ের অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে দৃশ্যমানতে ২৫ মিটারেরও কম। রাজস্থানের গঙ্গানগরেও একই পরিস্থিতি। বিহার এবং মধ্যপ্রদেশে বেশি কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে প্রবল কুয়াশাও হচ্ছে। ফলে যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মোট ৩২০টি ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে।
কাশ্মীরের তাপমাত্রা শূন্যের থেকে বেশ কয়েক ডিগ্রি নিচে নেমে গেছে। আগামী ৪০ দিন কাশ্মীরে প্রবল ঠান্ডা থাকবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিম হিমালয়ে আরো বেশি করে তুষার পড়বে।
এদিকে, এর মধ্যেই দিল্লির বাতাসের গুণমানও ভয়ানক অবস্থায় পৌঁছেছে। বাতাসে যে ভাবে দূষিত কণার পরিমাণ বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।
সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস