ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান ১০ মাস পূর্ণ হতে চলেছে। এই যুদ্ধে রাশিয়ার বিপরীতে ইউক্রেনের অর্জন কিছু নেই। বিপরীতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেন। এরপরও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি। খবর আলজাজিরার।
বুধবার রাতে মার্কিন কংগ্রেসে যৌথ অধিবেশনে দেওয়া প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী ভাষণে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইকে সমর্থন দেওয়ার জন্য মার্কিন নেতা এবং আমেরিকার সকল নাগরিককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি তার ভাষণে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক বিশ্বে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা ‘দাতব্য’ নয় বরং ‘বিনিয়োগ’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো আপস হতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সমর্থন চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে বিলিয়ন ডলার সামরিক ও মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
জেলেনস্কির সফরের আগে হোয়াইট হাউস ইউক্রেনের জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তার একটি নতুন প্যাকেজও নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া আগামী বছরের জন্য ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। ইউক্রেনের যুদ্ধে প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলেনস্কি।
এ ছাড়া ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি সরবরাহ বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারাও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আবেদন জানিয়ে আসছেন। নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইউক্রেনকে রাশিয়ার আক্রমণের বিরুদ্ধে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করতে সক্ষম করবে বলে দাবি করেছেন তারা।
কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার আগে মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন। জেলেনস্কি যখন মঞ্চে উঠেন তখন মার্কিন আইনপ্রণেতারা চেয়ার ছেড়ে নেমে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে দেশটির বাহিনী। ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধে যুদ্ধে রূপ নেওয়া পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এই প্রথম জেলেনস্কি বিদেশ সফর করছেন।