গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রাত ৯টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া। আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অনে সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দল। সুপার সিক্সটিনে খেলতে হলে জিততেই হবে বেলজিয়ামকে। গ্রুপ এফ এ নিজেদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে ফেভারিট বেলজিয়াম। যদিও এই ম্যাচের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় বেশ চাপে রয়েছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটি। রেড ডেভিলসরা এই মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর পর গ্রুপ টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আজকের ম্যাচে পরাজিত হলেই বিদায় নিশ্চিত হবে বেলজিয়ামের। মরক্কোর সাথে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ক্রোয়েশিয়া পরের ম্যাচেই কানাডাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লড়াইয়ে ফিরে আসে। এই পরাজয়ে কানাডার বিদায় নিশ্চিত হলেও গত আসরের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার শেষ ১৬ এর পথ অনেকটাই সুগম হয়। এই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-এফের শীর্ষে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া।
গোল ব্যবধানে তারা মরক্কোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে অন্তত ড্র করতে পারলেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত হবে। আর জয়ী হতে পারলে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে। তবে মরক্কো যদি বড় ব্যবধানে কানাডাকে হারায়, তবে তাদের সামনেও সুযোগ থাকবে গ্রুপের শীর্ষ স্থান দখলের। ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১২তম স্থানে থাকা ক্রোয়েশিয়া সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা আট ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। ইউরো ২০২০-এর পর শেষ ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তারা মাত্র একটিতে পরাজিত হয়েছে। ২০১০ সালে সর্বশেষ ফিফা প্রীতি ম্যাচে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। এর পর আর বেলজিয়ামকে হারাতে পারেনি; কিন্তু এবার ক্রোয়েশিয়ান ক্যাম্পের আত্মবিশ্বাস রয়েছে তুঙ্গে। শেষ ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে পুরো দলই আত্মবিশ্বাসী। চার বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়ামের এখন পর্যন্ত বড় কোনো টুর্নামেন্টের হিসেবে সেরা সাফল্য বিবেচিত হচ্ছে।
বেলজিয়ামের স্বর্ণালী প্রজন্মের সামনে এখন গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কা, যা কাটিয়ে উঠতে মুখিয়ে আছে পুরো দল। গ্রুপর প্রথম ম্যাচে সাহসী কানাডার বিরুদ্ধে কোনো মতে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছিল বেলজিয়াম; কিন্তু পরের ম্যাচে উজ্জীবিত মরক্কোর সাথে আর পেরে ওঠেনি। ২-০ গোলের পরাজয় মেনে নিয়ে তাদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় কোচ রবার্তো মার্টিনেজও চাপে আছেন। শেষ ১৬ নিশ্চিত করতে হলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় ভিন্ন বিকল্প পথ খোলা নেই। ড্র করলে অবশ্য তাদের সামনে একটি সুযোগ আছে, সেক্ষেত্রে কানাডার কাছে মরক্কোকে তিন কিংবা আরো বেশি গোলের ব্যবধানে হারতে হবে। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে শেষ চারটি ম্যাচের তিনটিতেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বেলজিয়াম; কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সাথে শেষ তিনটি মোকাবেলায় তারা অপরাজিত রয়েছে। এর মধ্যে গত জুনে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ী দলটির নাম ছিল বেলজিয়াম।
পরিসংখ্যানের বিচারে যে কারণে কিছুটা হলেও আজকের ম্যাচের আগে এগিয়ে রয়েছে রেড ডেভিলসরা। ক্রোয়েশিয়ান বস ডালিচ তার মূল একাদশে খুব একটা পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন না। ক্রামারিচ ও ইভান পেরিসিচের সাথে আক্রমণভাগে লিভায়াই থাকছেন। ৩৭ বছর বয়সী লুকা মদরিচ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে তার পজিশন ধরে রেখেছেন। তার সাথে মধ্যমাঠে আরো আছেন মাতেও কোভাচিচ ও মার্সেলো ব্রোজোভিচ। সেন্টার ব্যাকে ডিয়ান লোভরেন ও জোসকো গাভারডিওল তাদের জুটি ধরে রেখেছেন। জোসিপ স্টানিসিচ ও বর্না বারিসিচকে টপকে ফুল-ব্যাক হিসেবে জোসিপ জুরানোভিড ও বর্না বারিসিচের খেলার সম্ভবনাই বেশি। অন্যদিকে বেলজিয়ামর দলে মার্টিনেজ অন্তত একটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। মিডফিল্ডার আমাডু ওনানা নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারছেন না। তার স্থানে এ্যাক্সেল উইটসেলের সাথে ইউরি টিয়েলেমানসের মূল দলে ফিরে আসা প্রায় নিশ্চিত।
কানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টের জয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর মরক্কোর কাছে ২-০ গোলে হেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বেলজিয়ামের। ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ফিফা র্যাংকিংয়ের দুই নম্বর দল তারা। গত বিশ্বকাপে যারা তৃতীয় হয়েছিল। দেশকে বড় কোনো সাফল্য এনে দেওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার শেষ সুযোগ আজ বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের সামনে। সেজন্য উত্তীর্ণ হতে হবে অগ্নিপরীক্ষায়। হারাতে হবে গত আসরের রানার্সআপদের। ‘এফ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ মুখোমুখি কেভিন ডি ব্রুইনার বেলজিয়াম ও লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া। একই সময়ে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামবে মরক্কো। দুই ম্যাচে সমান চার পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে গ্রুপের শীর্ষে ক্রোয়েশিয়া, দুইয়ে মরক্কো। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেলজিয়াম। টানা দুই হারে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে কানাডার। আজ ড্র করলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া যদি জেতে, সেক্ষেত্রে কানাডার কাছে হারলেও সমস্যা হবে না মরক্কোর। অন্যদিকে মরক্কো যদি তিন গোলের কম ব্যবধানে হারে, তখন ড্র করলেও বিদায় নেবে বেলজিয়াম। আর মরক্কো হারলে বেলজিয়ামের কাছে হেরেও শেষ ষোলোতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ক্রোয়েশিয়ার। সব মিলিয়ে বেলজিয়ামের সামনে কার্যত জয়ের কোনো বিকল্প নেই। এমন কঠিন সময়ে যোগ হয়েছে বেলজিয়াম শিবিরে গৃহদাহের গুঞ্জন! দলটির তারকা মিডফিল্ডার ডি ব্রুইনা প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলেন, রক্ষণের বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য ভুগতে হচ্ছে বেলজিয়ামকে।
দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর তার জবাব দেন ডিফেন্ডার ইয়ান ভার্টোনেন। বলেন, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দেরও বয়স হয়ে গেছে, তাই তারা ভালো করতে পারছেন না। এ নিয়ে দলে বিভক্তির গুঞ্জন অবশ্য কাল উড়িয়েই দিলেন বেলজিয়ান গোলকিপার থিবো কুর্তোয়া, ‘সমস্যা হলো অনেক বেশি মিথ্যা ছড়ানো হয়েছে। অস্তিত্বহীন ঘটনা নিয়ে গল্প ফাঁদা হয়েছে। দল হিসাবে আমাদের এসব নেতিবাচকতা এড়াতে হবে। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেই এখন পুরো মনোযোগ আমাদের। মাঠে আমরা একে অপরের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।’ এদিকে ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইভান পেরিসিচ এক পয়েন্টের জন্য খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন, ‘আমাদের এক পয়েন্ট প্রয়োজন; কিন্তু খেলতে হবে জয়ের জন্যই। যদি ড্রয়ের জন্য খেলি, কঠিন ম্যাচটা আরও কঠিন হয়ে যাবে। তাই জয়ের বিকল্প কিছু ভাবছি না আমরা।’ এর আগে কয়েক বারই একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া। সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছে গত বছরও। কিন্তু বিশ্বকাপে এই প্রথম বার দেখা হতে যাচ্ছে দল দুটির। এখন পর্যন্ত মুখোমুখি লড়াইয়ে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া আছে সমানে-সমান অবস্থানে। বিশ্ব মঞ্চে প্রথম সাক্ষাতে কি সমতা ভাঙতে পারবে তারা, সেটাই এখন দেখার।
কাতার বিশ্বকাপে রেড ডেভিলসরা এই মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর পর গ্রুপ টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে সর্বশেষ ফিফা প্রীতি ম্যাচে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। এরপর আর বেলজিয়ামকে হারাতে পারেনি। কিন্তু এবার ক্রোয়েশিয়ান ক্যাম্পের আত্মবিশ্বাস রয়েছে তুঙ্গে। শেষ ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে পুরো দলই আত্মবিশ্বাসী। চার বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়ামের এখন পর্যন্ত বড় কোনো টুর্নামেন্টে সেরা সাফল্য। বেলজিয়ামের স্বর্ণালি প্রজন্মের সামনে এখন গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কা, যা কাটিয়ে উঠতে মুখিয়ে আছে পুরো দল।