নিত্যপণ্যের বাজারে যেন কাটছেই না অস্থিরতা। আটা-ময়দার বাড়তি দাম তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে চিনির কৃত্রিম সংকট। লবণের দরও বেড়েছে এক দফা। বাজারে দাম নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড মেনে নেয়া ছাড়া যেন কিছুই করার নেই।
যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বেড়েই চলেছে আটা-ময়দার দাম। সামনে আবারো বাড়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের। চিনি কিছুটা মিললেও বাজারজুড়ে কৃত্রিম সংকটের ছাপ স্পষ্ট। লবণের মূল্য আবারো বাড়ার কানাঘুষাও কম নয়।
ক্রেতাদের দাবি, সরকার থেকে নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারিত করে দেয়া দরকার। যাতে কেউ বেশি দাম নিলে সরকার ব্যাবস্থা নিতে পারে।
তবে যাঁরা ইলিশ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আছে স্বস্তির খবর। রাজধানীর মাছের বাজারে ইলিশ মাছের দাম আগের তুলনায় কমেছে। এক কেজির চেয়ে কিছুটা বড় আকারের ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ঈদের আগে একই আকারের ইলিশ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, কাটাসুর বাজার, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৮০০ গ্রাম বা এর চেয়ে কম ওজনের ইলিশের দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমেছে। এই আকারের ইলিশ এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন পাওয়া যাচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়। আর আধা কেজি বা এর কিছু বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।
মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। যে কারণে দাম কমেছে। আকারভেদে প্রতি কেজিতে ইলিশে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কমেছে। তবে বিধিনিষেধের কারণে বাজারে ক্রেতা অনেক কম।
ইলিশ মাছের পাশাপাশি বাজারে মুরগি ও ডিমের দামও কমেছে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজারে গতকাল শুক্রবার ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ছিল। সোনালিকা (কক) মুরগির দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে এখন ২১০ থেকে ২১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির মতো ডিমের দামও কমেছে। কৃষি মার্কেটের পদ্মা ব্রয়লার হাউসে ফার্মের মুরগির ডিম হালি ৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডজন কিনলে দাম পড়ে ৯২ থেকে ৯৫ টাকা। তবে ঈদের আগে এক ডজন ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি করার কথা জানান কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. শাহিন ইসলাম।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. ইব্রাহিমের দোকানে করলা প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন আগেও করলার কেজি ৮০ টাকা ছিল বলে জানান তিনি।