দীর্ঘ নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে সদ্য নির্বাচিত হয়েছেন লিজ ট্রাস। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে আসার কয়েকদিনের মধ্যেই ফের পরিস্থিতি টালমাটাল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র ৪৩ দিন পর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সুয়েলা ব্রাভারম্যান। তার এই পদত্যাগের ফলে প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস আরো বেশি সংকটের মধ্যে পড়লেন এবং এতে তার প্রধানমন্ত্রীত্বের ভবিষ্যৎ মারাত্মক শংকার মুখে পড়ল।
লিজ ট্রাসের সাথে বুধবার এক বৈঠকের পর পদত্যাগ করেন । ইমিগ্রেশন নীতি লঙ্ঘন করে ইমেইল পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন তিনি। এক পর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, চিপ হুইপ এবং তার ডেপুটি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জোর করে তা প্রত্যাখ্যান করে।
ইতোমধ্যে ট্যাক্স ইস্যুকে কেন্দ্র করে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে কোয়াসি কোয়ার্টেংকে সরিয়ে দিয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।
এমন এক উত্তাল অবস্থার পর বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে ১৯২২ কমিটি। সেই বৈঠককে সামনে রেখে লিজ ট্রাসের কোনো কোনো মিত্র বলছেন, যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না লিজ ট্রাস। তার পরিস্থিতি এখন টালমাটাল। অর্থাৎ যেকোনো সময় তাকে বিদায় নিতে হবে।
এদিকে বুধবার হাউজ অব কমন্সে দাঁড়িয়ে লিজ ট্রাস বলেছেন, তিনি লড়াকু মানুষ, সহজে পরাজয় বরণ করবেন না। তিনি পদত্যাগও করবেন না।
এর আগে বুধবার পার্লামেন্টে বিরোধীদলের ডাকে হওয়া ‘ফ্র্যাকিং ভোট’ নিয়ে আইনপ্রণেতারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন, পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টির ৩৫৭ এমপি থাকলেও বিরোধী লেবার পার্টির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন মাত্র ৩২৬ জন। এটি ট্রাসের প্রশাসনের বিষয়ে আস্থা ভোট কিনা তা নিয়ে প্রকাশ্যে তর্কাতর্কিত জড়িয়ে পড়েন কনজারভেটিভ এমপিরা। কিছু এমপি প্রকাশ্যে ট্রাসকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান আর অন্যরা তার জায়গায় কে আসতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করেন।
সব মিলিয়ে লিজ ট্রাসের উপর থেকে চাপ কমার কোনও সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। বরং নানা দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়ছেন তিনি। পদ বাঁচানোর লড়াই ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ছে তার পক্ষে। তার কাজে কনজারভেটিভ দলের সদস্যরা এতটাই বিরক্ত, যে ট্রাসকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা। প্রয়োজন পড়লে দলের নিয়ম ভেঙে দ্রুত নির্বাচন করে নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির অধিকাংশ সদস্য।
এদিকে, এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, এখনই লিজ ট্রাসকে সরিয়ে দিতে চান সাধারণ মানুষও। ফলে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঋষি সুনাকের সম্ভাবনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি