চিরসবুজ নায়ক জাফর ইকবালের জন্মদিন আজ

7

নতুন প্রজন্মের অনেক দর্শকের কাছেই তার নামটি অজানা। সংগীতে প্রতিষ্ঠা পেতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছিল তাকে। তারপর এলেন চলচ্চিত্রে। এখানেও তীব্র প্রতিযোগিতার ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন তিনি। স্বাধীনতার ডাক শুনে অস্ত্র হাতে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধেও। জীবন তার অনেক সংগ্রামের রঙে রঙিন।

কিন্তু আফসোসের বিষয়, যখনই ঢাকাই সিনেমার আকাশে নক্ষত্র হয়ে জ্বলে উঠলেন তখনই মৃত্যু কেড়ে নিল সব আলো। এতক্ষণ ধরে বলছিলাম চিরসবুজ চিত্রনায়ক জাফর ইকবালের কথা।

ঢাকাই সিনেমার চিরসবুজ এই নায়কের জন্মদিন আজ রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর)।

তাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করে খুব সহজেই লাভবান হতেন পরিচালক ও প্রযোজকরা। অথচ সময়ের স্রোতে জাফর ইকবাল ভেসে গেলেন দুর্বল স্মৃতির ঢেউয়ে। তার জন্মদিন, মৃত্যুদিন চলে যায় নীরবে, মনে রাখে না কেউ। না ফেরার দেশে বসে অকৃতজ্ঞ চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি, কাজের সহকর্মী আর দর্শকদের দিকে তাকিয়ে হয়তো নিজের গাওয়া গানটিই বেশি করে মনে পড়ে তার- ‘আমি তো এখন আর নই কারো’!

ঢাকাই ছবিতে জাফর ইকবাল ছিলেন সত্তর ও আশির দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় হার্টথ্রব নায়ক। বিশেষ করে রোমান্টিক দৃশ্যে তার উপস্থিতি নাড়িয়ে যেত তরুণীদের হৃদয়। তাকে স্টাইল আইকন হিসেবে নিয়েছিলেন সে সময়ের তরুণরা। এমনকি তার পরবর্তী জেনারেশনের নায়করাও তার ফ্যাশন অনুসরণ করেছেন।

ক্যারিয়ারে জাফর ইকবাল প্রায় ১৫০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। যার বেশিরভাগই ছিল ব্যবসা সফল। তিনি প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। ‘প্রেমিক’ সিনেমাটি তার প্রযোজনায় নির্মিত হয়।

ববিতার সাথে তার জুটি ছিল দর্শক নন্দিত। ববিতার বিপরীতে ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই জুটির বাস্তব জীবনে প্রেম চলেছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ায় হতাশ হয়েই জাফর ইকবাল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান বলে জোর গুঞ্জন উঠেছিল। অনেকেই বলেন, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরণী’ গানটি জাফর ইকবাল ববিতার জন্যই গেয়েছিলেন। যদিও প্রেমের বিষয়ে ববিতা বা জাফর ইকবাল কেউ-ই কখনো মুখ খুলেননি।

জাফর ইকবাল অভিনীত ‘ভাই বন্ধু’, ‘চোরের বউ’, ‘অবদান’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘একই অঙ্গে এত রূপ’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘবিজলী বাদল’, ‘নয়নের আলো’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘প্রেমিক’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’ ,‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’, ‘উসিলা’ ইত্যাদি চলচ্চিত্র সুপারহিট হয়।