চীনের জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ওই রিপোর্টে, চীনকে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়।
অবশ্য প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আগেই আহ্বান জানিয়েছিল চীন। তবে সেই আহ্বান ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বেইজিং এই রিপোর্টেকে পশ্চিমাদের সাজানো ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিম এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে চীনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে মূলত সেসবই মূল্যায়ন করা হয়েছে। মূলত উইঘুর মুসলিমসহ অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি চীন বরাবরই অস্বীকার করে থাকে।
তবে তদন্তকারীরা বলছেন, তারা চীনা কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ উন্মোচন করেছেন এবং সেগুলো সম্ভবত ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’। তারা সংখ্যালঘুদের অধিকারকে দমন করার জন্য অস্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যবহার এবং ‘স্বেচ্ছাচারীভাবে আটকের ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুমোদিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের নির্যাতন এবং তাদের সাথে করা ‘অপরাধের নিদর্শনের’ মধ্যে ‘যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনাও’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, নির্বিচার বন্দিত্বের শিকার ভুক্তভোগীরা জোরপূর্বক চিকিৎসা এবং ‘পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতির বৈষম্যমূলক প্রয়োগের’ সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।