একটি আদর্শ ট্যাক্স ফার্মের কি কি গুণাবলী থাকা উচিত? জানাচ্ছেন মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী।
করদাতাদের জন্য একটি আদর্শ ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা খুবই জরুরি, কেননা Making mistakes on our taxes cost us. তাছাড়া ভুল, অসম্পূর্ণ বা দেরিতে ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার ফলে জরিমানার সাথে সাথে রয়েছে ভোগান্তি। দেখুন আমাদের দেশে আয়কর বিষয়টি মুষ্টিমেয় ছাড়া অধিকাংশের কাছেই জটিল এবং ব্যবসায়িক কর ব্যক্তিগত করের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। আমাদের ট্যাক্স ব্যবস্থাকে যদি সহজ সরল, সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করা যায়, তাহলে তাহলে দেশের জনগণের ট্যাক্স দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অবশ্য এনবিআর এ বিষয়ে কাজ করছে-বলছিলেন দেশের শীর্ষ ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়ে কাজ করা কোম্পানি ট্যাক্সসেন্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ট্যাক্স ডিজিটালাইজেশনের কারণে এখন ইন্ডিভিজুয়াল ট্যাক্স রিটার্ন আপনি অনলাইনে সাবমিট করতে পারবেন এবং প্রতিবছর উত্তরোত্তর এ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন হচ্ছে। নি:সন্দেহে এটা একটা ভালো উদ্যোগ হিসেবে পরিগণিত করা যায়। আয়কর রিটার্ন সম্পূর্ণ নির্ভুল পদ্ধতিতে জন্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন একজন ট্যাক্স বিশেষজ্ঞের। আপনি আপনার ট্যাক্স রিটার্ন সম্পাদনের জন্য বিশেষজ্ঞ নির্বাচনের পূর্বে আসলে জানা প্রয়োজন what the ideal professional actually looks like. আর কি কি খেয়াল রাখা দরকার সে বিষয়ে বলছিলেন মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী।

সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:
প্রশ্ন: একটি আদর্শ ট্যাক্স ফর্ম এর কি কি গুণাবলী থাকা দরকার?
মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠানের প্রথম যুক্তবর্ণ গুণাবলী হচ্ছে সম্মানিত ক্লায়েন্টের সমস্যাগুলি মনোযোগ সহকারে শোনা এবং এর গুরুত্ব অনুধাবন করে যথাযথ সমাধান নিশ্চিতকরণ। পাশাপাশি উক্ত প্রতিষ্ঠানের নির্ভুল সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকতে হবে। স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর ভাবে যোগাযোগ রক্ষার দক্ষতা থাকতে হবে। পেশাগত আত্মবিশ্বাস এবং সততা তার গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলীর মধ্যে একটি। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা তা হল জবাবদিহিতা। মানুষ মাত্রই কিন্তু ত্রুটিমুক্ত নয়, ত্রুটি স্বীকার করার সৎ সাহস থাকতে হবে। সর্বাগ্রে ক্লায়েন্টের যাবতীয় তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন: দেশের জনগণের মাঝে ট্যাক্স দেওয়ার প্রবণতা কি কমে যাচ্ছে বলে আপনার মনে হয়?
মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: দেশের সচেতন জনগনের মাঝে দিনে দিনে ট্যাক্স দেওয়ার প্রবণতা কমছে না বরং বাড়ছে বলেই আমার মনে হয় । আয়কর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আমরা মানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে মানুষ ট্যাক্স দিতে চায়।একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে চায়। আমাদের ট্যাক্স ব্যবস্থাকে যদি সহজ সরল- সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি দিনে দিনে আমাদের ট্যাক্স দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে।সুখবর হচ্ছে ট্যাক্স সহজীকরণ প্রক্রিয়া চলমান। আয়কর ডিজিটালাইজেশনের কারণে আপনি বর্তমানে ইন্ডিভিজুয়াল ট্যাক্স রিটার্ন অনলাইনে সাবমিট করতে পারবেন আপনি সাবমিট করতে পারবেন । এখন ট্যাক্স দেওয়ার যে পদ্ধতি তা অনেকটাই ঝামেলামুক্ত হয়ে যাবে অনলাইন হওয়ার কারণে | কর্পোরেট বা বিজনেস ট্যাক্স তুলনামূলকভাবে জটিল বিধায় পর্যায়ক্রমে এটিও সহজতর প্রক্রিয়ায় চলে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। একটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে যে ট্যাক্স রিটার্ন এবং ট্যাক্স প্ল্যানিং বা পরিকল্পনা দুটো একেবারেই ভিন্ন বিষয়|ট্যাক্স প্ল্যানিং হল একটি আর্থিক পরিস্থিতি বা পরিকল্পনার বিশ্লেষণ যাতে সব উপাদান একসাথে কাজ করে যাতে আপনি সম্ভাব্য সর্বনিম্ন ট্যাক্স দিতে পারেন। একটি পরিকল্পনা যা নির্ধারণ করে আপনি আইনের মধ্যে থেকে দক্ষতার সহিত সর্বনিম্ন কতটা ট্যাক্স প্রদান করেন। এর জন্য প্রয়োজন আয়কর পরিষেবায় দক্ষ ও বিশ্বস্ত একজন আয়কর বিশেষজ্ঞ বা প্রতিষ্ঠান।যার সহায়তায় আপনার কষ্টার্জিত সম্পদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত বিধান করে রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন।
প্রশ্ন: বাজেট নিয়ে কিছু বলুন?
মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: আমার কাছে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে এবারের বাজেটে সেটি হল মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তার কোনো সঠিক দিক নির্দেশনা নেই। মুদ্রাস্ফীতির কারণে জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ যা অপ্রতুল প্রতিফলিত হচ্ছে। এবার বাজেটে মেড ইন বাংলাদেশ -এজেন্ডাকে বাস্তবায়নের জোর দেওয়া হয়েছে যা নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। এই বাজেটে যেটির ভালো দিক, লিস্টেট এবং নন-লিস্টেট কোম্পানির জন্য প্রত্যেকের কর্পোরেট ট্যাক্স এর হার ২.৫ পার্সেন্ট কমিয়ে আনা। যেটি দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই একটি ভালো অবস্থানে যেতে সাহায্য করবে পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কিছুটা বৃদ্ধি করবে । তবে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের কিছুটা দ্বিমত রয়েছে। সরকার কিছু বিলাসবহুল পণ্যের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে, এর ফলে মেড ইন বাংলাদেশ এজেন্ডাটা বাস্তবায়ন হবে। আমি বরাবরই ট্যাক্স রেট কম এর পক্ষে। রাষ্ট্রকেই দেশীয় উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের সঠিক উপায়ে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে বহির্বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা দান করতে হবে। ট্যাক্স রেট কম করে; ট্যাক্সের আওতা যেন বাড়িয়ে দেয়া হয় অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা হয়। ট্যাক্স রেট কমিয়ে অধিকাংশ মানুষকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা-এটাই আমার সরকারের প্রতি প্রত্যাশা।

প্রশ্ন: ট্যাক্স ডিজিটাল নিয়ে আপনার মন্তব্য শুনতে চাই?
মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: আপনি যদি উন্নত দেশগুলোতে অর্থাৎ ইউরোপ আমেরিকায় দেখেন তারা কিন্তু ডিজিটালি ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিট করেন এবং রিফান্ড দাবি করেন। আমাদের গতবছর থেকে স্মুথলি কিছুটা রান হয়েছে এই ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া। আমি আশা করছি এক সময় আমাদের দেশে ট্যাক্স ব্যবস্থা আরও সুন্দর ও সহজতর হবে । যারা শিক্ষিত ও ট্যাক্স এর আওতাভুক্ত, তারা নিঃসন্দেহে ট্যাক্স রিটার্ন অনলাইনে সাবমিট করবেন ঝামেলামুক্তভাবে ।তবে একজন দক্ষ আয়কর উপদেষ্টা বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আমাদের সম্মানিত করদাতাগণ একসময় যথাযথ আয়কর পরিকল্পনার মাধ্যমে ডিজিটালি আয়কর সংক্রান্ত সমস্ত কর্মকাণ্ড বা কার্যাবলী নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে সম্পাদিত করবেন এই প্রত্যাশা করি।